ম্যাচ সেরা হয়েও পুরস্কার নিজে না নিয়ে যাকে দিলেন রশিদ খান

দ্বিতীয় বারের মতো আইপিএল খেলছেন তার সাবেক দল হায়দরাবাদের হয়ে। একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তুলে ধরছেন মাঠের ভিতরে। মাঠের বাইরে তার কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই মন জিতে নিয়েছে ক্রিকেটবিশ্বের।

দুর্দান্ত কল কের আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান এবারের আইপিএলে মন জিতে নিয়েছেন। শুধু আইপিএলে নয়, গোটা দুনিয়া জিতে নিয়েছেন ‘কৃপণ’ এই স্পিনার। বোলিং দিয়ে তো বটেই, সেই সঙ্গে তার মানবিক মুখ এখন দেখে ফেলেছে ক্রিকেটবিশ্ব। আর তা দেখার পরেই সবাই আফগান বোলারের প্রশংসায় মেতে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর সেখানে রশিদ খানের চার ওভার পার্থক্য গড়ে দেয় ম্যাচে। আফগান স্পিনারকে মারতেই পারলেন না মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিস্ফোরক সব ব্যাটসম্যান।

প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-এর বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন রশিদ। তার ইকনমি রেট ৩.২৫! দুর্দান্ত এই স্পেলে আইপিএল-এ দারুণ এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন রশিদ।

দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪ বলের স্পেলে রশিদ ‘ডট বল’ করেছেন ১৮টি বল। আইপিএল-এর একটি ম্যাচে কোনও স্পিনারের সর্বোচ্চ ‘ডট বল’ করার কীর্তি ছুঁয়ে ফেলেন ১৯ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও অমিত মিশ্র এক ম্যাচে ১৮টি করে ‘ডট বল’ করেছেন। এর মধ্যে অশ্বিন একাই তা করেছেন দু’ ম্যাচে।

এরকম কৃপণ বোলিং করলে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা আর রান তুলবেন কী করে! ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে কী করলেন রশিদ? আফগান স্পিনার নিজেই রহস্য ফাঁস করেছেন। আফগান লেগ স্পিনারের এক বন্ধুর ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছেনা না তার বন্ধু।

ঠিক এমনি মুহুর্তে বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছেন রশিদ। ম্যাচ সেরার আর্থিক পুরস্কার তিনি তুলে দিচ্ছেন তার বন্ধুর হাতে, যাতে সেই বন্ধু তার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেন। রশিদের এহেন কীর্তি মন ছুঁয়ে গিয়েছে সবার।