ডি ভিলিয়ার্সে রক্ষা পেল কোহলির বেঙ্গালুরু

প্রথমে ব্যাট করে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১৫৫ রান তোলার পরই ম্যাচের ফল প্রায় জানা হয়ে গিয়েছিল। এক বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ ছাড়া এবারের আইপিএলে এ পরে ব্যাট করা দলই জিতছে প্রতিদিন। এর অন্যথা হয়নি আজও, ১৫৬ রানের লক্ষ্যটা ৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জিতল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এবি ডি ভিলিয়ার্সের দারুণ এক ইনিংসে এবারের প্রথম জয় পেল বেঙ্গালুরু।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিন্তু তাতেও রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর খুব ক্ষতি হয়নি। কুইন্টন ডি কক ও বিরাট কোহলির মতো দুই স্ট্রোক মেকার জুটি বাধলে অমনটাই হওয়ার কথা। তবে বেঙ্গালুরু ধাক্কা খেল পঞ্চম ওভারে। ১৭ বছর বয়সী এক আফগানের গুগলিতে।

পাওয়ার প্লেতে বল করতে এসে আগের ওভারে মাত্র ২ রান দিয়েছেন। পরের ওভারের প্রথম ৪ বলেও মাত্র ১ রান। মুজিব-উর-রহমান এখানেই থামলেন না। ওভারের পঞ্চম বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করলেন। এত বাইরের বল দেখে ড্রাইভ করার লোভ সামলাতে পারলেন না বিরাট কোহলি। দারুণ এক বাঁক নিল গুগলিটা। ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে স্টাম্পে চলে গেল বল, এতক্ষণ দারুণ ছন্দে থাকা কোহলিও বিদায় নিলেন মাত্র ২১ রানে।

৩৩ রানে ২ উইকেট হারানো বেঙ্গালুরু এরপরও ছুটছিল জয়ের দিকে। ডি কক ও এবি ডি ভিলিয়ার্স ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। ১২তম ওভারে অশ্বিনের স্পিনে সেটা থামল। না অফ স্পিন বলা যাচ্ছে না। কারণ, অনেক আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রাখা অশ্বিন আজ সত্যিকারেই লেগ স্পিন করেছেন! একটা স্লাইডারে বোল্ড হয়েছেন ডি কক। আর ঠিক পরের বলেই সত্যিকারের লেগ স্পিনে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন সরফরাজ খান। ৮৭ রানে ৪ উইকেট হারাল বেঙ্গালুরু।

ম্যাচের মোড়টা ঘুরল ১৭ ওভারে। ৪ ওভারে ৪১ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান দেওয়া মুজিব বল করতে এলেন। প্রথম ৪ বলে ৭ রান দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় খারাপ কিছু নয়। কিন্তু শেষ দুটি বল একবার লং অফ আর মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা। মুহূর্তেই ১৮ বলে মাত্র ২২ রান লাগবে বেঙ্গালুরুর।

১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আবার ছক্কা ডি ভিলিয়ার্সের। ছক্কার হ্যাটট্রিকেই ৩৬ বলে ফিফটি ছুঁলেন ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ ফিরে গেলেন ডি ভিলিয়ার্স (৪০ বলে ৫৭, ২ চার ও ৪ ছক্কা)। এতক্ষণ ডি ভিলিয়ার্সকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া মনদ্বীপও (১৯ বলে ২২ রান) চতুর্থ বলে রান আউট হয়ে গেলেন! ম্যাচটা ক্ষণিকের জন্য জমে উঠল।

শেষ ওভারে ৫ রান লাগবে বেঙ্গালুরুর। হাতে ৪ উইকেট। কী হয়, কী হয়! প্রথম বলেই আপার কাট করলেন ওয়াশিংটন সুন্দর, থার্ডম্যান দিয়ে চার। পরের বল ডট। পরের বলে আর ঝামেলা বাড়ালেন না সুন্দর, কভার দিয়ে চার মেরে শেষ করলেন আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে পাঞ্জাবের ইনিংসের গতি প্রকৃতি অবশ্য মাত্র ৬ বলেই লিখে ফেলেছিলেন উমেশ যাদব। লোকেশ রাহুলের দুর্দান্ত শুরুতে প্রথম ৩ ওভারেই ৩২ রান তুলে ফেলেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। যাদবের ৬ বলেই সব বদলে গেল। প্রথম বলে আগারওয়ালকে ডি ককের দুর্দান্ত ক্যাচ বানিয়ে শুরু। দ্বিতীয় বলেই সাতটি দলের হয়ে আইপিএল খেলার রেকর্ড গড়া অ্যারন ফিঞ্চ এলবিডব্লু। ওভারের শেষ বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে এসে বোল্ড করলেন যুবরাজ সিংকে। ৩২/০ থেকে মুহূর্তেই ৩৬/৩!

লোকেশ রাহুল অবশ্য ওসবকে কোনো পাত্তা না দিয়েই খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আগের ম্যাচেই আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়া রাহুল আজ ঝড়টা ঠিক ওই মাত্রায় না তুললেও ভালোই ছুটছিলেন। কিন্তু ১২তম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরকে তুলে মারতে গিয়ে ৪৭ রানেই আউট হলেন। ৩০ বলের ইনিংসে ছিল ৪ ছক্কা ও ২ চার। দলের রান তখন ৯৪। ইনিংসের বাকি তখনো ৫৩ বল।

কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিন ছাড়া আর কেউই ব্যাট হাতে ভরসা দিতে পারলেন না। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২১ বলে অধিনায়কের তোলা ৩৩ রানই হয়ে রইল দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তাতেই স্কোরটা ১৫৫-র বেশি হলো না। ৪ বল বাকি থাকতে এবারের আইপিএলে প্রথম দল হিসেবে অলআউট হলো পাঞ্জাব।