সহজে চশমার লেন্স পরিষ্কারের কিছু টিপস

আমরা অনেকেই প্রয়োজনে আবার অনেকে ফ্যাশনের জন্য চশমা ব্যবহার করে থাকি। তবে সানগ্লাসের বদলে চশমা বেশির ভাগ সময় প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের ভুল ব্যবহারের কারণেই অনেক সময় অসাবধানতাবশত চশমার লেন্সে দাগ পড়ে যায়। আর এই সব দাগের জন্য চশমার লেন্স ঘোলা হয়ে যায়।

এবং দেখতে অসুবিধা হয়ে থাকে। চশমার লেন্সে দাগ পরে গেলে হাতের কাছে থাকা উপাদানের সাহায্যে ঝটপট পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। আসুন তাহলে জেনে নিই উপায়গুলো।

নিচে চশমা পরিষ্কারের সহজ একটি প্রক্রিয়া দেওয়া হল:

মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলুন চশমার গ্লাস। এবার সামান্য টুথপেস্ট লাগান গ্লাসে। চক্রাকারে কয়েক মিনিট ঘষুন। মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন পেস্ট। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়েও মুছে নিতে পারেন। ঝকঝকে হবে চশমার লেন্স।

২ চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তুলার টুকরা দিয়ে লেন্স আগে পরিষ্কার করে নিন। এরপর সোডার পেস্ট লাগিয়ে ধীরে ধীরে ঘষুন। মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।প্রবাহিত হালকা গরম পানিতে আলতোভাবে লেন্স ধুয়ে নিন।

এরপর লেন্সে ডিশ সোপের মতো হালকা কোনো সাবান মাখুন সতর্কতার সঙ্গে। আবারও গরম পানিতে ধুয়ে নিন। ধোয়ার সময় অবশ্যই নোজ প্যাডসহ পুরো ফ্রেম পরিষ্কার করবেন। তবে সিটরিকভিত্তির ডিটারজেন্ট বা ডিশ সোপ ব্যবহার করবেন না। এ সব লেন্সের জন্য ক্ষতিকর।

ধোয়ার সময়ও গরম পানিতে চক্রাকারে চশমা ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন। ধোয়া শেষে ঝাঁকিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত পানি ফেলে দিন। এবার শুকনা সুতি বা নরম কাপড় দিয়ে লেন্স মুছে নিন। গেঞ্জি বা নরম টাওয়ালও ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখুন কাপড় যেন রোয়াহীন হয়। আঙুল দিয়ে চক্রাকারে মুছুন।

শুধু কাচ মুছলে হবে না। ফ্রেমসহ পুরো চশমা মুছতে হবে। নইলে আর্দ্রতার কারণে দ্রুত ময়লা জমবে।নোজপ্যাড পরিষ্কারে নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। খেয়াল করুন কোনোভাবেই যেন লেন্সে ব্রাশের আঁচড় না পড়ে।

ঘুমানোর সময়ে চশমা নির্দিষ্ট বক্সে রাখুন।

চশমা পরিষ্কারের সতর্কতা:

কখনোই চশমা ডিটারজেন্ট অথবা সাবান-পানিতে ধোয়া ঠিক নয়।এসব পরিষ্কারক সামগ্রী দিয়ে ধোয়ার পর ঠিকমতো মুছে পরিষ্কার করতে না পারলে লেন্সে দাগ পড়ে কুয়াশার মতো আবরণ তৈরি হয়। ফলে দেখার অসুবিধা হয়।চশমার লেন্স কখনোই হাত দিয়ে ধরা যাবে না। এতে স্ক্র্যাচ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আর্থিক সমস্যা না থাকলে একাধিক চশমা কিনে রাখা ভালো। অসতর্কতাবশত চশমা ভেঙে গেলে বা কোন ক্ষতি হলে অন্তত অন্যটা ব্যবহার করে সাময়িক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।চশমায় যেন ঘাম না লাগে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।যতটুকু পারা যায় ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে।

চশমার লেন্স হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে, কখনোই লেন্সে হাত দিয়ে চশমা খোলা উচিত না।দুই-তিন মাস পরপর চশমার দোকানে নিয়ে গিয়ে চশমার স্ক্রুগুলো টাইট করিয়ে নিতে পারেন। চাইলে ঘরেও করা যায়, তবে অসাবধানতাবশত দাগ ফেলে দেয়া বা কিছু ভেঙে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু না।

চশমার দোকানে এর জন্য আলাদা টাকা চাওয়ার কথা না সাধারণত।