‘কাল্পনিক চরিত্রও আমাকে কাঁদিয়েছে’

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কলকাতার আলোচিত অভিনেত্রী। সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘একটি সিনেমার গল্প’। এ চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি প্রথম কোনো ছবির প্রিমিয়ার ও প্রচারণার জন্য ঢাকায় এলেন। কেমন ছিল এবারের ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতা?

এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্য রকম। যতবারই এখানে আসি, একবারের জন্যও মনে হয় না অন্য কোনো দেশে এসেছি। নিজের দেশে আছি বলেই মনে হয়। এখানকার মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এ দেশের বৈশাখী আনন্দ নিয়ে কলকাতায় ফিরছি। নায়ক মান্না আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেতা ছিলেন।

তার কথা খুব মনে পড়ে। বৈশাখের প্রথম দিন তার জন্মদিন পালন করেছি। এটা আমার জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। এবার ঢাকায় এসেছিলাম ‘একটি সিনেমার গল্প’ প্রচারণার জন্য। যে জন্য সর্বোচ্চ সময় দিয়েছি প্রচারণার প্রতিটি আয়োজনে। শুধু আমি নই, পুরো টিমকেই সঙ্গে পেয়েছি।

‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবি নিয়ে কেমন দর্শক সাড়া পেলেন?

আমার তো মনে হয় ‘একটি সিনেমার গল্প’ দর্শকের বৈশাখের আনন্দটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবির প্রচারণায় যত জায়গায় গিয়েছি, সবাই এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। গত শুক্রবার ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ও বলাকা হলে ছবিটি দেখেছি। হল থেকে বের হওয়ার পর দেখেছি দর্শকের মুখে তৃপ্তির ছাপ।

তাতেই বোঝা গেল, বেশ আনন্দ নিয়ে তারা ছবিটি দেখেছেন। ছবির চরিত্র ও তার ঘটনাগুলো কাল্পনিক। তারপরও নির্মাণের গুণে সেটা বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। সে কারণেই ছবির গল্প ও কাল্পনিক চরিত্রও আমাকে কাঁদিয়েছে। সহশিল্পী শুভর সঙ্গে রসায়নটা কেমন ছিল?

আরিফিন শুভ ভীষণ পরিশ্রমী একজন অভিনেতা। শেখারও আগ্রহ আছে। একজন বড় অভিনেতা হতে গেলে যে বিষয়গুলো জানা দরকার, সেসব নিয়ে যথেষ্ট ভাবে বলেই মনে হয়েছে। কাজের চাপ কমাতে মাঝে মাঝে মজা করত।

আমার সামনে এসে বরাবরই বলত, ‘দিদি তোমাদের সামনে তো আমি একেবারে শিশু, আমাকে কিছু শিখিয়ে দাও!’ আমার কাছে মনে হয়েছে, ওর মধ্যে এক ধরনের সরলতা আছে। যেটা ওকে অনেক দূর পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

শুনেছি ভারতের আলোচিত পুলিশ অফিসার দয়ামন্তীর চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন?

হ্যাঁ, নতুন ছবি ‘দয়ামন্তী’তে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় আমাকে দেখা যাবে। ছবিটি পরিচালনা করবেন অর্ণব রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়। গল্পে দেখা যাবে, ওই পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি নজর কাড়ে সবাইকে। সে অনেককেই টেক্কা দিতে পারে।

কলকাতার উচ্চপদে থাকা দয়ামন্তীর হাতে আসে একটি কেস, যেখানে এক দম্পতিকে একটি ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দয়ামন্তী এই কেস নিজ হাতে নেয়, কারণ তার জীবনের অতীতের ছবি দেখতে পায় সে এই কেসে। একসময় দয়ামন্তী খুঁজে পায় একজন অটিস্টিক শিশুকে।

খুনের তদন্ত করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় দয়ামন্তীর। গল্পটি দারুণ। শিগগিরই এর শুটিং শুরু হবে।

এখন আর কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

কিছুদিন আগে ‘দৃষ্টিকোণ’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছি। শুটিং শেষ, ছোটখাটো আর কিছু কাজ বাকি আছে। এর পাশাপাশি ‘অন্বেষণ’, ‘লবঙ্গলতা’সহ আরও কয়েকটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ ছাড়া ‘লবঙ্গলতা’ নামের আরেকটি ছবিতে আলমগীরের সঙ্গে কাজ করব। এ ছবির শুটিং হবে কলকাতায়।