ছোট্ট শরীরে বিপুল তাড়না! লাগাতার সঙ্গমে পৃথিবী থেকে মুছে যাওয়ার মুখে দুই প্রজাতি

টানা ১৪ ঘণ্টার শারীরিক মিলন! বিলুপ্তির পথে হেঁটে বিজ্ঞানীদের ঘুম কাড়ল এই প্রাণী। প্রবল যৌন খিদে। অবাধ মিলনের অভ্যেস। এক সঙ্গিনী থেকে আরেক সঙ্গিনী, সেখান থেকে আরেক। নাগাড়ে শারীরিক মিলনে মেতে থাকে পুরুষটি। তবু আশ মেটে না। খেলা শেষ হয় মৃত্যুর কোলে মাথা দিয়ে।

ছোটোখাটো প্রাণীগুলিকে দেখতে অনেকটা ইঁদুরের মতো। বসবাস অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কালো লেজের ধূসর অ্যান্টেচিনুস আর রুপোলি-মাথা অ্যান্টিচিনুস – এই দুটি প্রজাতির পুরুষদের ক্ষেত্রেই এমন যৌন তাড়নার নিদর্শন দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষকরা জানাচ্ছেন, এইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একাধিক সঙ্গিনীর সঙ্গে শারীরিক মিলনে মেতে থাকার ধকল প্রচুর। এমনকী টানা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মিলনে রত থাকতে পারে এরা। কিন্তু তার ফলে একেবারে ভেঙে পড়ে ছোট্ট শরীর। বিপজ্জনক পরিমাণে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরিত হয়। একের পর এক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হতে থাকে। লোম উঠে যেতে থাকে। কিন্তু শরীরের ছটফটানি তাতে কমে না।

এমন ধ্বংসাত্মক মিলনের পরপরই মৃত্যু হয় পুরুষটির। জীবনচক্র এক বছরও গড়ায় না। প্রাণীবিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তা, কয়েক দশক আগেও এই দুই প্রজাতির সংখ্যা বর্তমানের থেকে অন্তত দশ গুণ ছিল। এখন কেবল কুইন্সল্যান্ডের তিনটি জায়গায় সামান্য কিছু প্রাণী বেঁচেবর্তে রয়েছে। শরীরের চাহিদাকে আয়ত্বে আনতে না পারলে পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকা সত্যিই মুশকিল।

সূত্র: এবেলা।