মিতালি রাজের বক্তব্যের অর্ধেক জুড়ে ছিল বাংলাদেশ!

এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল শুধু ট্রফিই অর্জন করেনি, অর্জন করেছে প্রশংসাও। আর সেটিও কিনা ভারতের মত পরাশক্তি দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মুখ থেকে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ।

ভারতের নারী ক্রিকেটের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয় হাতেগোনা যে কয়েকজনকে, তাদেরই একজন মিতালি রাজ। ৩৫ বছর বয়সী এই সুদর্শনা ক্রিকেটার টি-২০ দলে এখন আর অধিনায়ক হিসেবে না থাকলেও বলিষ্ঠ হাতে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে। দেশের পক্ষে ১০টি টেস্ট, ১৯৪টি ওয়ানডে আর ৭৬টি টি-২০ ম্যাচ খেলে সমৃদ্ধ পরিসংখ্যান বয়ে চলা মিতালির নজর কেড়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট।

এশিয়া কাপ শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের ফাইনাল জয়ের নায়িকা রুমানা জানান, আসর চলাকালীন এক ডিনার পার্টিতে মিতালি রাজের বক্তব্যের অর্ধেক জুড়েই ছিল বাংলাদেশ দলের বন্দনা।

রুমানা বলেন, ‘সেখানে দুইটা ডিনার পার্টি ছিল। সেখানে মিতালি রাজ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার অর্ধেক অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ।’

ক্রিকেটে বাংলাদশের উন্নতি অবাক করেছে ভারতীয়দের। রুমানা বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট এতোটাই উন্নতি করেছে যে ওরা খুব-খুব অবাক হয়েছে। ফাইনালের আগেই মিতালি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাটে-বলে অনেক উন্নতি করেছে।’

এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশ নারী দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিল। ঐ সফরে পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-২০ সবগুলো ম্যাচেই হেরেছিলেন রুমানারা। তাও হারের ব্যবধানও ছিল বেশ বড় বড়। পরিসংখ্যান বিচারে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রবল ব্যর্থতা দৃশ্যমান হলেও ঐ কঠিন সফরের পর এশিয়া কাপ সহজ হয়ে ধরা দিয়েছে বলেই অভিমত রুমানার, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর এটা আসলে কঠিন কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে কিন্তু আমরা বলেছিলাম, সেখানকার কন্ডিশন আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা হবে। আর এবার খেলেছি এশিয়ার ভেতরে।’

রুমানা জানান, মালয়েশিয়ার কন্ডিশনে খেলা স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় ছিল বাংলাদেশের জন্য। তাই ভালো করার আশাবাদ আগেই রেখেছিলেন তারা। তার ভাষ্য, ‘আমরা আশাবাদী ছিলাম, মালয়েশিয়ায় আমরা অনেক ভালো করতে পারব। সেখানে কন্ডিশন আমাদের এতটাই পক্ষে ছিল যে অতিরিক্ত ভালো খেলে ফেলেছি (হাসি)।’

এর আগে এশিয়া কাপের ইতিহাসে কোনো দলই ভারতকে কখনও হারাতে পারেনি। তাই আগের ছয়টি আসরের শিরোপা উঠেছিল ভারতের হাতেই। অথচ এবার সেই ভারতকেই কিনা দুইবার হারিয়েছে বাংলাদেশ! প্রথমে রাউন্ড রবিন লিগে ৭ উইকেটে, পরে মহাকাব্যিক শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৩ উইকেটে। রাউন্ড রবিন লিগ আর ফাইনালের সেই দুই জয়ের মধ্যে অবশ্য রুমানা এগিয়ে রাখছেন প্রথম জয়কেই। কারণ সেটিই তো খুলে দিয়েছিল ফাইনালে ওঠার পথ!

রুমানা বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়টাকে এগিয়ে রাখব। ওই ম্যাচটা জিততে না পারলে তো আমরা ফাইনালে খেলতে পারতাম না।’

ভারতকে হারানোয় ফাইনাল ম্যাচে বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করেছে জানিয়ে রুমানা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেললাম। আমাদের জন্য এটা বেশি জরুরি ছিল। আর প্রথমবার যেহেতু ভারতকে হারাতে পেরেছিলাম ফাইনালে একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাসী কাজ করেছে।’

মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে খেলোয়াড়েরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- ‘ভালো খেলার’। তবে সেই ভালো খেলা যে হাতে শিরোপা এনে দিবে, সেটি ভাবেননি তারাও। নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে তারা ধরে নিয়েছিলেন ফাইনালে খেলাকেই। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল মনোবলও। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াটা যেন আসলেই বলছে, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা একেকজন বাঘিনীই!

রুমানা বলেন, ‘সেভাবে মনে করিনি যে চ্যাম্পিয়ন হব। সত্যি বলতে, আমাদের প্রথম আর শেষ লক্ষ্য ছিল, ফাইনালে খেলব। প্রথম ম্যাচটা আমরা হয়তো খারাপ করেছি কিন্তু এরপর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি সেটা আমাদের পরিণত হয়ে ওঠার প্রমাণ। খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিলাম।’

সূত্র: বিডিক্রিকটাইম।