যে ১০ কারণে আম খাবেন

গ্রীষ্মকালীন ফল আম। নানা গুণে ভরপুর সুস্বাদু এই আমকে বলা হয় ফলের রাজা। পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তবে পুষ্টিবিদরা বলেন, পাকা হোক কাঁচা হোক যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন আম খুবই উপকারী। চলুন জেনে নেয়া যাক এনডিটিভিতে প্রকাশিত আমের কিছু উপকারিতা-

১. শ্বাসকষ্ট থেকে দূরে রাখে

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে এমন রোগের প্রকোপ কমে যেতে সময় লাগে না। আর আম হলো ভিটামিন সি-এর ভান্ডার। তাই তো এই ফলটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই মিলে।

২. গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারি

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভবতী নারীরা যদি নিয়মিত এই ফল খাওয়া শুরু করেন, তাহলে দেহের ভেতরে আয়রন, ভিটামিন এ, সি এবং বি৬-এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে গর্ভাবস্থায় কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৩. ব্রণ সমস্যায় কার্যকারী

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের পরিচর্যায় এই ফলটিকে কাজে লাগালে ব্রণের সমস্যা তো কমেই, সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আম দিয়ে বানানো ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে সারা মুখে ভালো করে আম লাগিয়ে মাসাজ করতে হবে। তারপর ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখ।

৪.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমের ভেতরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং ক্যারোটেনয়েড শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫. হজম শক্তি বাড়ায়

আমের ভেতরে বিশেষ এক ধরনের এনজাইম রয়েছে, যা দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে।

৬. চোখের জন্য উপকারী

আমে বিদ্যমান ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই নিয়মিত আম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে

আমে উপস্থিত ফাইবার, পেকটিন এবং ভিটামিন সি, কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পলন করে। সেই সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৮. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ৩-৪ বার আমের রস দিয়ে যদি ভালো করে ত্বকের মাসাজ করা যায়, তাহলে ত্বকের ভেতরে পুষ্টির ঘাটটি যেমন দূর হয়, তেমনি ত্বকের বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিদ্রগুলোও খুলতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে শুরু করে।

৯. ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে

আমে থাকা কুয়েরসেটিন, আইসোকুয়েরসেটিন,অ্যাস্ট্রাগেলিন ফিসেটিন, মাথাইল গ্যালেট প্রভৃতি উপাদানগুলো কোলোন, ব্রেস্ট, লিউকেমিয়া এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১০. শরীরে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় থাকে

আমের মধ্যে থাকা টার্টেরিক, ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরের ভেতরে ‘অ্যালকালাইন ব্যালেন্স’ ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীর সুস্থ রাখতে অ্যাসিডের ভারসাম্য ঠিক রাখাটা জরুরি।