পুরনো দাম্পত্যেই রোমান্স ফিরিয়ে আনবে যে ছোট্ট ভালোবাসাগুলো…!

একটি সুখ, শান্তি ও রোমান্টিকতায় ভরপুর দাম্পত্য জীবন সকলেরই কাম্য। প্রতিটি নারী ও পুরুষ বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন সুখী হবার স্বপ্ন দেখে। জীবনের সকল চড়াই উৎরাই একসাথে পার করার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হন বিবাহের সম্পর্কে। সম্পর্কের শুরুতে মধুরতা, রোমান্টিকতা থাকলেও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে এই মধুরতা।

ব্যস্ততায় সময় না পাওয়ায় বাড়তে থাকে দূরত্ব। কিন্তু আপনি সহজেই আপনার দাম্পত্য জীবন প্রেমময় করে তুলতে পারবেন সামান্য কিছু কাজে। এই সহজ কাজগুলি করলে আপনি আপনার সম্পর্কের মধুরতা ও রোমান্টিকতা ফিকে হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

জেনে নিন সেই উপায় গুলোকে যে উপায়ে আপনি আপনার দাম্পত্য জীবনকে সর্বদা প্রেমময় রাখতে পারবেন।

একে অপরকে সময় দিন
অনেক সময়ই দেখা যায় দম্পতিরা একসাথে একরুমে থাকলেও কথা হয় না। কারণ সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত। আবার বাইরে গেলেও হয়তো কেনাকাটা কিংবা সন্তান সাথে নিয়ে বের হওয়া। কিন্তু এইসবের ফাঁকে তো একে অপরকে সময় দেয়া সম্ভব নয়। দাম্পত্য জীবনে একে অপরকে সময় দেয়া সম্পর্কের মধুরতা ধরে রাখার অন্যতম উপায়। দিনরাতে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫ মিনিট পাশাপাশি বসে কথা বলুন। কিংবা সপ্তাহে ১ দিন দুজনে মিলে ঘুরে আসুন। ব্যস্ততা সব সময় থাকবে কিন্তু যে সময়টি পার করছেন তা আর ফেরত পাবেন না।

ভালোবাসা মাখা চিরকুট/ এসএমএস
অনেকেই এই কাজটিকে ছেলেমানুষি ভেবে বসতে পারেন। কিন্তু একটি ভালোবাসা মাখা ছোট চিরকুট দিনের শুরুটাই মধুরতা দিয়ে শুরু করে। কিছুই নয়, শুধুমাত্র ‘ভালোবাসি’ কথাটিই না হয় লিখলেন। এটিও ঝামেলা মনে হলে সারাদিনের কাজের ফাঁকে ১ মিনিট সময় বের করে একটি ছোট এসএমএস লিখে পাঠিয়ে দিন প্রিয়জনকে।

ভালোবাসা প্রকাশ করুন
অনেকেই নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে সঙ্কোচ প্রকাশ করেন। বলি বলি করেও বলেন না প্রিয় মানুষটিকে যে আপনি তাকে কতোখানি ভালোবাসেন। সম্পর্কে মধুরতা চিরকাল ধরে রাখতে চাইলে সঙ্কোচ ঝেড়ে ফেলুন। বলে দিন যা আপনার ভালোবাসার মানুষটি শুনতে চান।

একে অপরের গুরুত্ব দিন
অনেক দম্পতির মধ্যে একে অপরের কথা কিংবা সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেয়ার মনোভাব পোষণ করতে দেখা যায়। এতে সম্পর্ক দিনের পর দিন তিতা হতে শুরু করে। আপনি যদি তার কথা বা সিধান্তকে গুরুত্ব দেন তাহলে এতে আপনার তার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রদর্শন করা হয়। এতে সম্পর্কে মধুরতা বজায় থাকে।

সঙ্গীর প্রতি খেয়াল রাখুন
একে অপরের প্রতি খেয়াল রাখা সম্পর্কে চিরকাল রোম্যান্টিক রাখে। শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট সময় বের করে প্রিয়মানুষটির একটু খেয়াল রাখুন। কী করছেন, কোথায় আছেন, কী খেয়েছেন জানুন। তবে লক্ষ্য রাখবেন খেয়াল রাখা যেন খবরদারীর পর্যায়ে না পড়ে।

সঙ্গীর কাজকে পূর্ণ মর্যাদা দিন
কখনো ভেবেছেন কি আপনার সঙ্গীটি সারাদিন কত কাজ করেন। যে দম্পতিরা উভয়েই চাকুরীজীবী আর যে দম্পতির স্বামী চাকুরীজীবী ও স্ত্রী গৃহিণী সবাই সারাদিনে কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু কয়জন পূর্ণ মর্যাদা পান তার কাজের? আজ থেকে একটু মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করেই দেখুন না। সারাদিন কষ্ট করেন দুজনেই রাতে শুতে যাবার আগে একে অপরকে সাধারণ ধন্যবাদটুকু দিন। দেখবেন দাম্পত্য জীবনের অশান্তি দিনে দিনে দূর হয়ে যাচ্ছে। সেখানে স্থান নিচ্ছে মধুরতা।