রেমিট্যান্সের ওপর করারোপের সংবাদ গুজব

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর কোনো ধরনের আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বসানো হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদকে মিথ্যা ও গুজব উল্লেখ করে তা হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর চেয়ারম্যান এ কথা জানান। এনবিআরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভ্যাট বা কর বসানোর খবরটি গুজব। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বক্তব্য হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। দেশের বৈধ রেমিট্যান্সপ্রবাহ বন্ধ করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অপপ্রয়াস হিসেবে এ প্রচারণা চালানো হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর আরোপিত হয় পণ্য বা সেবা সরবরাহের ওপর। বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের বাইরে কঠোর শ্রমের মাধ্যমে যে সেবা দিয়ে থাকেন, তার বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রা আসে। এ সম্পূর্ণ কার্যক্রম মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩-এর উপধারা ২(ক) মোতাবেক সেবা রফতানি হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং এ রফতানি কার্যক্রম ভ্যাটের আওতাবহির্ভূত। অর্থাৎ রেমিট্যান্সসীমা নির্বিশেষে এ খাতের ওপর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য নয়। তাই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যেকোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ চ্যানেল বা হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স পাঠালে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে না। এ কারণে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হুন্ডি বা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের বিষয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী ১ কোটি প্রবাসী ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। এ অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।