অন্তত মেসির জন্য বিশ্বকাপ জিতুক আর্জেন্টিনা : মাশরাফি

আর্জেন্টিনা-ভক্ত মাশরাফি বিন মুর্তজা তাই মনে-প্রাণে চাইছেন, অন্তত মেসির জন্য বিশ্বকাপ জিতুক প্রিয় দল।বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বড় হয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার খেলা দেখে। আর্জেন্টাইন ফুটবল-ঈশ্বরের পায়ের জাদু তার মন জয় করে নিয়েছিল ছেলেবেলায়।

আর তাই ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ আর্জেন্টিনার সমর্থক। স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনার বর্তমান দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় মেসি। অবশ্য পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর খেলাও ভালো লাগে টাইগারদের অন্যতম সফল অধিনায়কের।

আর্জেন্টিনা কখনও ‘তারকাশূন্য’ হয়ে পড়লেও প্রিয় দলের সঙ্গ ছাড়বেন না মাশরাফি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার একটাই কারণ—ম্যারাডোনা। তবে আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করি বলে অন্য দলকে অসম্মান করার মতো মানসিকতা নেই আমার।

বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে না খেলা পর্যন্ত আমি আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করবো। সামনের বিশ্বকাপে হয়তো মেসি থাকবে না। তবে যে-ই থাকুক, আমার সাপোর্ট আর্জেন্টিনার দিকেই থাকবে। কারণ একটাই—ম্যারাডোনা!’

এবারের বিশ্বকাপে প্রিয় দলের কাছে তার তেমন প্রত্যাশা নেই। মাশরাফির শুধু একটাই চাওয়া, ‘এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফেভারিট নয়। তাই প্রিয় দলের কাছ থেকে আমার বড় কিছুর প্রত্যাশাও নেই। আমি শুধু চাই মেসির জন্য এবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতুক। হয়তো এটাই মেসির শেষ সুযোগ। তার মতো ফুটবলারের বিশ্বকাপ না জেতার চেয়ে আক্ষেপের আর কী হতে পারে!’

অন্যদের মতো মাশরাফিদের পরিবারও একাত্ম হয়ে যায় বিশ্বকাপের সঙ্গে। একসময় নিজের শহর নড়াইলে বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে খেলা দেখতেন। সঙ্গে থাকতো মায়ের রান্না করা খিচুড়ি-গরুর মাংস। এখন ঢাকায় থাকেন বলে সেভাবে আয়োজন করে খেলা দেখা হয় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বন্ধুদের নিয়েই দেখেন তিনি।

মাশরাফি জানালেন, ‘ছোটবেলায় হৈ-হুল্লোড় করে খেলা দেখার মজাই ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা বন্ধুরা মিলে দেখতাম। আর দিনের বেলা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সাপোর্টাররা দুই ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতাম। এখনও আয়োজন করে খেলা দেখি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, জার্মানি, ফ্রান্স আর ইতালির ম্যাচগুলো। এবার অবশ্য ইতালি নেই। একসঙ্গে খেলা দেখার মজাই আলাদা।’

পতাকা নিয়েও মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাশরাফির। দেশের অন্যতম সেরা পেসারের স্মৃতিচারণ, ‘নড়াইলে থাকতে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আব্বা ব্রাজিলের পতাকা টানাতেন। আর আমি আম্মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর্জেন্টিনার পতাকা বানাতাম। আব্বা আমাকে পতাকার জন্য কোনও টাকা দিতেন না। প্রত্যেক বিশ্বকাপে তিন/চারটা পতাকা বানাতাম। বাড়িতে, মামাবাড়িতে, নড়াইল সরকারি স্কুলের সামনে পতাকা টানাতাম।’

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ দুই ভাগ হয়ে যায়, যেন ‘যুদ্ধ’ লেগে যায় আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমও এর বাইরে নয়। প্রায়ই তর্কে মেতে ওঠেন দুই দলের সমর্থক ক্রিকেটাররা। মাশরাফি অবশ্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে তর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন সব সময়, ‘আমি তর্ক করি না, কারণ জানি তর্ক করে লাভ নেই।

প্রথমত রেজাল্ট আমাদের পক্ষে নেই, আর দ্বিতীয়ত আমি কোনও আশাও দেখি না। তাছাড়া বিশ্বকাপ জিততে ভাগ্য লাগে। গতবার আর্জেন্টিনা যে সুযোগ পেয়েছিল সেটা আবার পাবে কিনা কেউ জানে না। সবচেয়ে বড় কথা, ব্রাজিল অনেক বড় দল আর্জেন্টিনা থেকে। তাই তর্ক করার সুযোগ নেই।’

তামিম ইকবাল ব্রাজিলের সমর্থক। দেশসেরা ওপেনারের সঙ্গে কি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ঝগড়া হয়? মাশরাফির উত্তর, ‘ঝগড়া করি না। তবে টিকে থাকার জন্য যতটা প্রয়োজন ততটা তো করতেই হয়। আর বাস্তবতা হলো, ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে, ওদের টিমও ভালো।’

শুধু আর্জেন্টিনা-ম্যারাডোনা-মেসি নয়, মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোরও ভক্ত মাশরাফি, ‘আমি মেসিকে যতটা পছন্দ করি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও ততটাই পছন্দ করি। সে (রোনালদো) মাঠে আক্রমণাত্মক হতে পারে, কিন্তু অনেক মহৎ কাজ করে। রোনালদো যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাতে ওর ভক্ত না হয়ে উপায় নেই।’