পর্দা উঠল বিশ্বকাপের

অবশেষে এলো; বজ্রপাতের মতো। এক ঝটকায় কেঁপে উঠল গোটা বিশ্ব। পর্দা উঠলো দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের। সাক্ষী থাকলো মস্কো। শহরটির ২০২ টনের বোবা ঘণ্টাটিও যেন আজ বেজে উঠল, ঘোষণা করল এক ফুটবল ‘মহাযুদ্ধের’। যেখানে লড়বে ৩২ দল।

ফুটবলারদের বুট হয়ে উঠবে ঘোড়ার খুর। সবুজ ঘাসে পায়ের আঘাতে ফুলকি ঝরাবে আগামী এক মাস। খেলোয়াড়দের ঘামে সিক্ত হবে রাশিয়ার ১২টি স্টেডিয়াম।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

এরইমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ ফুটবলপ্রেমী হাজির হয়েছে রাশিয়ায়। বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বকাপে চোখ রাখবে আরও প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ। এ ‘নেশা’ ফুটবলবিশ্বকে ডুবিয়ে রাখবে আগামী এক মাস।

৮০ হাজার দর্শকধারণ ক্ষমতার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শুরুতেই পুরো দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত ৫০০ নৃত্যশিল্পী। এরপর মনোমুগ্ধকর সব কৌশলে মুগ্ধ করতে মুখিয়ে আছেন জিমন্যাস্টরা। রাশিয়ার ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও কালচার তুলে ধরবেন স্থানীয় শিল্পীরা।

যেখানেই একতা, সেখানেই আছে জয়। এ স্লোগান দিয়ে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং লিভ ইট আপ নিয়ে মঞ্চ মাতাবেন নিকি জ্যাম ও ইরা ইস্ত্রোফী। সঙ্গে থাকবেন হলিউড তারকা উইলস্মিথ। গানের সঙ্গে চমৎকার কোরিওগ্রাফীতে মঞ্চ মাতাবেন নৃত্যশিল্পীরা।

তবে, আকর্ষণের কেন্দ্রজুড়ে থাকবেন ইংল্যান্ডের ৯০ দশকের পপ তারকা রবি উইলিয়ামস। তারপরেই মঞ্চে আসবেন রাশিয়ানদের নয়নের মনি সঙ্গীতশিল্পী আইদা গারিফুলিনা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে আলো ছড়াবেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোনালদো। মঞ্চে তার উপস্থিতি এনে দেবে ভিন্নমাত্রা। লুঝনিকির মতোই মস্কোর বিখ্যাত রেড স্কয়ারে রাখা হয়েছে উদ্বোধনী কনসার্ট। সেখানে মঞ্চ মাতাবেন প্লেসিডো ডোমিঙ্গো, দিয়েগো ফ্লোরেজের মত তারকা শিল্পীরা।

শেষটায় পুরো পৃথিবীকে বিশ্বকাপের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিতে থাকবে জমকালো আতশবাজি।

কোন চ্যানেলে দেখতে পাবেন:

বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে সনি পিকচার্স নেটওয়ার্ক। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সহ ৬৪ টি ম্যাচ সরাসরি দেখা যাবে সনি টেন টু তে। এছাড়া এইচডি দেখা যাবে সনি টেন ওয়ান এইচডি ও সনি টেন টু এইচডিতে।

এছাড়া বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোর মধ্যে বিটিভি, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন ও নাগরিক টিভিতে দেখা যাবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।