শুধু মাঠেই নয়, লড়াই হয়েছে গ্যালারিতেও!

মাঠে লড়েছে দুই দলের ২২ জন। তবে গ্যালারিতে আরও দু’জনের লড়াই চলছিলো একটু অন্যরকমভাবে। বিশ্বকাপের উদ্বোধন শেষে ভিভআইপি গ্যালারিতে গিয়ে বসলেন পুতিন। সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। দুই জনের আসনের ঠিক মাঝখানে ছিলো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আসনটি। ঠিক যেনে দু’জনের মাঝে রেফারির দায়িত্বটি তাঁর।

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম গোলের দেখা পেতে খুব বেশিক্ষণ দেরি করতে হয়নি। স্বাগতিক দলের ইওরি গাজিনস্কি খেলার ১২ মিনিটে উল্লাসে ভাসান স্বাগতিকদের।

লুঝনিকিতে স্বাগতিক দর্শকরা যখন গোল উদযাপনে ব্যস্ত ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যামেরার লেন্স চলে যায় ভিআইপি গ্যালারিতে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দিকে। সেখানেও একধরণে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিলো ঠিকই। সৌদির জালে বল জড়ানোর পর প্রিন্সের দিকে আনন্দে ভরা হাসি নিয়ে দৃষ্টি ফেলেন পুতিন। যুবরাজের মুখে হাসি থাকলেও অঙ্গভঙ্গিতে হতাশার ছাপ স্পষ্টই ছিলো। হতাশ যুবরাজের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন স্বাগতিক রাষ্ট্রনেতা। দুই নেতা হাত মেলালেও মাঠের লড়াই তখনও চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শত্রুদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। সিরিয়া যুদ্ধে দুই দেশ বলতে গেলে একে অপরের মুখোমুখি। আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত এবং চর্চিত চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ভ্লাদিমির পুতিন এবং মুহাম্মদ বিন সালমান। তাই তাদের নিজ নিজ দেশের ‘ফুটবল যুদ্ধ’ পাশাপাশি বসে দেখার সময় এক ধরণের ‘ইমেজ যুদ্ধ’ যে গ্যালারিতেও হয়েছে সেটা বলাই যায়।

ঘরের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের সহজ জয় দিয়ে শেষ করে রাশিয়া। অতিরিক্ত সময়ে চারিশেভের পাঁ থেকে চতুর্থ গোলটির মাধ্যমে জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর আরাও টিভি পর্দায় পুতিন-বিন সালমান। তবে জয়ের উচ্ছ্বাসটা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে দমিয়ে রাখলেন পুতিন। বিজয়ের হাসিটা মুখে চেপে আলতো হাততালিতেই আবদ্ধ থাকলে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার বলেও তো একটা কথা আছে।

সূত্র: সময় নিউজ।