বর্ষায় জমেছে নৌকার হাট

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে: ভরা বর্ষা মৌসুমে যখন দক্ষিণাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে টইটুম্বুর হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই জমে ওঠে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নৌকা বেচা-কেনার হাট। ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলাকে ভাগ করেছে সন্ধ্যা নদীর শাখা আটঘর-কুড়িআনা খাল। জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ আটঘর-কুড়িআনা খালে বসে ডিঙ্গি নৌকার হাট।

এখানে বানারীপাড়া, উজিরপুর, নাজিরপুর, ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, নলছিটি, কাঁঠালিয়া, পিরোজপুরের কাউখালী ও নেছারাবাদ উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা কিনতে ভিড় করেন অসংখ্য ক্রেতা। গত শুক্রবার সকালে আটঘর নৌকার হাটে গিয়ে দেখা যায় সেই নয়নাভিরাম দৃশ্য। ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দরদাম করে পছন্দের নৌকাটি কিনে বাড়ি ফিরছেন। আবার কেউ একাধিক নৌকা কিনে ইঞ্জিন চালিত বড় ট্রলার অথবা ট্রাকে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা দামের ছোট ডিঙ্গি নৌকা পাওয়া যায় এ হাটে। নৌকা বিক্রেতা মো. রেজাউল কবির বলেন, ‘আমি স্বরূপকাঠির ইন্দেরহাট থেকে ৫০টি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে এসেছি। দুপুর পর্যন্ত ২২টি নৌকা বিক্রি করেছি। আশাকরি সবগুলো নৌকাই বিক্রি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইন্দেরহাটের বলদিয়াচামী গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে পাইকারি দামে নৌকা ও বৈঠা কিনে আটঘর হাটে বিক্রি করি।

প্রতি হাটে যাতায়াত খরচ ও হাটের খাজনা দিয়ে প্রতিটি নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। আবার কখনো লাভের বদলে লোকসানও হয়। নৌকা তৈরির কারিগর গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘ষাট বছর ধরে নৌকা তৈরি করে এ আটঘর হাটে বিক্রি করছি। আগে সুন্দরবন থেকে আসা সুন্দরী কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করতাম। কিন্তু বর্তমানে সুন্দরী কাঠ পাওয়া যায় না। তাই চাম্পল, মেহগনি, কাঁঠাল ও কড়াই কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করি। তবে কাঁঠাল কাঠের নৌকা মজবুত ও দামি। এ বছর ভালই বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি বছরই ক্রেতার সংখ্যা ও হাটের আয়তন বাড়ছে।’ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, ‘প্রতি বছর আটঘর-কুড়িআনা খালে নৌকার হাট ও ভিমরুলীতে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে দেশ-বিদেশী পর্যটকরা আসছেন।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ঝালকাঠি ও পিরোজপুর সিমান্তবর্তী আটঘর-কুড়িআনা খালে নৌকা ও ভীমরুলিতে ভাসমান পেয়ারার হাট পরিদর্শন করে গেছেন। এখানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে দর্শণার্থী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য একটি ডাকবাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।