ব্রাজিল ফুটবলাররা যে যত নাম্বার পেলেন

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের কাছে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই দুই গোল খেয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়িয়েছিল একথা ঠিক। কিন্তু গোল শোধ দিতে পারেনি সেলেকাওরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তো ম্যাচ ছিল পুরো ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রনে। তবুও আক্রমণের ফুল ফুটিয়েও সমর্থকদের মন জয় করতে পারিনি নেইমাররা। আর তাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে ব্রাজিলের তারকারা কে কতো নাম্বার পেয়েছেন তার একটি তালিকা দাঁড় করিয়েছে ‘ফ্যানসাইডেড’ নামের একটি সংবাদ মাধ্যম।

অ্যালিসন: ব্রাজিল দলের গোলবার সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে এক গোল এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুই গোল খেয়েছেন তিনি। তবে চোখে পড়ার মতো ভুল করেননি ব্রাজিল গোলরক্ষক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোম্পানির ভালো একটি কর্ণারে পা ছোঁয়ানো শট এবং ডি ব্রুইনির ফ্রি কিক ঠেকান তিনি। বেলজিয়াম যে দুটি গোল দিয়েছে তাতে তার দোষ খোঁজা বৃথা। কিন্তু ব্রাজিল গোলরক্ষক পেয়েছেন ১০ এর মধ্যে ৫.৫ নাম্বার।

মার্সেলো: বেলজিয়ামের বিপক্ষে আক্রমণে বেশ ভূমিকা রেখেছেন মার্সেলো। প্রথমার্ধে তার নেওয়া এক শট ফেরান বেলজিয়াম গোলরক্ষক কোর্তোয়া। এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের সূচনা করেছেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিল ডি ব্রুইনির দুর্দান্ত শট ঠেকে যে গোলটি হজম করেছে তাতে সামান্য হলেও দায় আছে মার্সেলোর।

ডি ব্রুইনিকে তিনি শট নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেননি। পারেননি তাকে কিছু সময় আটকে রাখতে। তাছাড়া দ্বিতীয় বারে বল মারার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার উচিত ছিল দ্বিতীয় বারটা ব্লক করা। মার্সেলো বেলজিয়ামের বিপক্ষে পেয়েছেন ৬.৫ নম্বর।

ফাগনার: এডেন হ্যাজার্ডকে ঠেকাতে চোখের জল নাকের জল এক করে ফেলেছেন ফ্যাগনার। কয়েকবার চোখে পড়ার মতো ট্যাকল করেছেন। হ্যাজাডের গতির কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছেন। এছাড়া আক্রমণে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। তার দুর্বল পারফর্মের কারণে ১০ নম্বরের মধ্যে ৪ নম্বর পেয়েছেন তিনি।

মিরান্ডা: প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধে ভালো রক্ষণ সামলেছেন তিনি। লুকাকুর গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন বেশ। ভালো দুটি শট ফিরিয়েছেন। এছাড়া ব্রুইনিকেও আটকে দিয়েছেন ক’বার। তবে গোল খাওয়ার দায় সবসময় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নিতে হবে। ব্রুইনির কাউন্টার অ্যাটকা ঠেকাতে না পারাও তাই রক্ষণের দায়। তবে বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচের তিনি দারুণ ছিলেন। ব্রাজিল ডিফেন্ডার পেয়েছেন ৬ নম্বর।

থিয়াগো সিলভা: থিয়াগো সিলভা ম্যাচের ৪ মিনিটে দারুণ এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। রক্ষণে তাকে নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। ফাগনারকে দিয়ে রক্ষণের কাজটা বেশ করিয়ে নিয়েছেন সিলভা। তিনি ১০ এর মধ্যে পেয়েছেন ৬ নম্বর।

পাউলিনহো: পাউলিনহো দারুণ দুটি সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি বল ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। অন্য একটি ক্রস বেলজিয়াম গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে তার পায়ে এসে পড়ে। কিন্তু তিনি বলের দিকে তার চোখ রাখতে পারেননি। তিনি নম্বর পেয়েছেন ৫।

ফার্নান্দিনহো: কাসেমিরোর জায়গায় সুযোগ মেলে ম্যানসিটি এই মিডফিল্ডারের। কিন্তু পারফর্মে তিনি কাসেমিরোর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারেননি। ম্যাচে তাকেই সবচেয়ে বিবর্ণ দেখা গেছে। ম্যাচে ব্রাজিল যে দুটি গোল খেয়েছেন দুটিতেই ভুল আছে তার। প্রথম লিডটি বেলজিয়াম তার আত্মঘাতি গোল থেকে পায়। দ্বিতীয় গোলটিতে লুকাকুকে আটকাতে পারেননি। আবার চোখে লাগার মতো ধীর গতিতে লুকাকুর পিছু নেন তিনি। লুকাকুও সুযোগ পেয়ে যান ডি ব্রুইনিকে দারুণ এক পাস দিতে। তার নম্বর ম্যাচে ৩.৫।

নেইমার: প্রতিভার সঙ্গে সুবিচার করতে পেরেছেন নেইমার? উত্তর ‘না’ আসার সম্ভাবণাই বেশি। ম্যাচের শেষ সময়ে ভালো এক শট নিয়েছেন। কোর্তোয়া তার নামের প্রতি সুবিচার করে বলটি সেভ করেছেন। কিন্তু নেইমার তার নামের প্রতি সুবিচার করে শটনি নিতে পারেননি। এছাড়া কৌতিনহোকে দিকে গোল দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ব্যতিত তিনি মনে রাখার মতো কিছু করেননি। বরং গোলের সুযোগ মিস করেছেন। তার নম্বর ৫.৫।

উইলিয়ান: তার ধীর গতির খেলা ব্রাজিলিয়ানদের মন জয় করতে পারেনি। দুই গোল খেয়ে যাওয়ার পরও গতি দেখাতে পারেননি তিনি। এছাড়া উইলিয়ান শুধু ক্রস দেওয়ার সুযোগ খুঁজেছেন। কিন্তু কম উচ্চতার খেলোয়াড় নিয়ে ব্রাজিল তা থেকে সুবিধা করতে পারিনি। ভালো কোন থ্রু উইলিয়ান বের করতে পারেননি। তার নম্বর ৪.৫।

কৌতিনহো: বেলজিয়ামের গোলের লক্ষ্যে শট নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। আগুস্তোকে দারুণ এক পাস দিয়ে গোল করিয়েছেন। এছাড়া নেইমারকে আক্রমণের ভালো রসদ দিয়েছেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই ব্রাজিলের সেরা খেলাটা দিয়েছে। কিন্তু শেষের দিকে দারুণ এক সুযোগ মিস করেছেন তিনি। তার নামের পাশে বসেছে ৭ নম্বর।

জেসুস: রাশিয়া বিশ্বকাপে তরুণ এই স্ট্রাইকার নিজের প্রতিভার সামান্যও দেখাতে পারেননি। পজিশন ধরে খেলতে পারেননি। বেলজিয়াম ডিফেন্ডারদের ওপরে তুলে আনা কিংবা ধরে রাখা দু’টিতেই ব্যর্থ তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে গোল করার মতো সুযোগ পেয়েছেন হাতে গোনা। তবে মাঠে তিনি বেশ দৌড়েছেন। সেজন্যই হয়তোবা তিনি ৫.৫ নম্বর পেয়ে গেছেন।

ফিরমিনো: তিনি বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের গতি বাড়িয়েছেন। সুযোগ তৈরি করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনিই দলের সেরা পছন্দ হওয়ার কথা ছিলেন। বদলি হিসেবে নেমে নম্বর পেয়েছেন ৬।

ডগলাস কস্তা: বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছেন কস্তা। দলকে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এছাড়া লুকাকুর মতো গতি তিনি ব্রাজিলর পক্ষে দেখিয়েছেন। কিন্তু গোল করতে বা করাতে না পারায় নম্বর পেয়েছেন কম। তিনি নম্বর পেয়েছেন ৬.৫।

আগুস্তো: নায়ক হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু গোল করে ম্যাচে ফিরেও সহজ এক সুযোগ মিস করেছেন তিনি। তার নামের পাশে বসেছে ৬.৫ নম্বর।

সূত্র: সমকাল।