বিশ্বকাপ ইতিহাসের তিন ‘অন্ধকার’ মুহুর্ত !

বিশ্বকাপ শুধু আনন্দ বয়ে আনে না, কারো জন্য আনে বেদনাও। রাশিয়া বিশ্বকাপসহ এ পর্যন্ত ফিফার ২০টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ২০ বিশ্বকাপে ঘটেছে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। এ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে বিশ্বকাপের ‘অন্ধকার মুহুর্ত’ বলাও চলে।

ফুটবল ভক্তদের জন্য বিশ্বকাপ ইতিহাসের তিন অন্ধকার মুহুর্ত তুলে ধরা হলো।

ডোপ টেস্টে প্রমাণিত ম্যারাডোনা :

আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ম্যারাডোনা। মহানায়কও বলা চলে। ৮৬ বিশ্বকাপে তিনি একাই টেনে নিয়েছিলেন আলবিসেলেস্তেদের। ফুটবলে সর্বকালের সেরাদের একজন বিবেচনা করা হয় ম্যারাডোনাকে।
তবে এ মহানায়কের জীবনেও রয়েছে অন্ধকার মুহুর্ত। সেটিকে ফুটবল ইতিহাসেরও একটি অন্ধকার মুহুর্ত বলা চলে। প্রেক্ষাপট ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ১ গোল করেছেন, আর ১ গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। এর পরেই আসে কালো মুহুর্তটি। ডোপ টেস্টে প্রমাণিত হয়ে দুই ম্যাচ পরেই ফিরতে হয় দেশে। তার এ ফিরে যাওয়া ফুটবল ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।

আন্দ্রেস এস্কোবারের মৃত্যু :

খেলাও যে কারো জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ কলম্বিয়ান খেলোয়াড় আন্দ্রেস এস্কোবার। আবারও সেই ১৯৯৪ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচ শুরু হওয়ার ৩৫ মিনিটের মাথায় আত্মঘাতী গোল করে বসেন আন্দ্রেস এস্কোবার। এর জের ধরে দেশে ফিরে যায় কলম্বিয়া ফুটবল দল। দেশে ফিরে যাওয়ার দশ দিন পর মেদেয়িন শহরের এক বারে এস্কোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী ১২ বার এস্কোবারকে গুলি করেন এবং প্রতিটি গুলি চালানোর সময় ‘গোল’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিফাইনালে যাওয়া :

এবার প্রেক্ষাপট ২০০২ বিশ্বকাপ। ফিফার ১৬তম আসর বসেছিল যৌথভাবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে। দক্ষিণ কোরিয়া সেবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত যায়। তবে এর পেছনেও রয়েছে এক বিভীষিকাময় গল্প। রেফারির সহায়তায়ই নাকি ইতালিকে হারিয়ে শেষ চারে যায় কোরিয়ানরা।

ওই ম্যাচে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন বায়রোন মনেরো। ইতালি- দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য কুখ্যাতি রয়েছে এ রেফারির। ম্যাচে ইতালির একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করে দিয়েছিলেন। লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিলেন দলের সেরা খেলোয়াড় ফ্রান্সেসকো টট্টিকে। ইতালিও হেরে বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। এ ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে কালো অধ্যায় হিসেবে।