তিতেকে রেখে দিল ব্রাজিল !

একদিন আগেই জানা গিয়েছিল, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তারা বিদায় নিলেও দলের ম্যানেজমেন্টে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনবে না। এমনকি কোচ তিতেকেও তারা অনুরোধ করবেন, নিজ দায়িত্বে থেকে যাওয়ার জন্য। অর্থ্যাৎ, ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন চায়, এখন থেকেই কাতার বিশ্বকাপের জন্য পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাক তিতে।

সিবিএফ তিতেকে রেখে দেয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ হতেই জানা গিয়েছিল, সেলেসাওদের কোচ কয়েকদিন সময় নেবেন নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। তবে খুব বেশি সময় নিলেন না তিতে। সিবিএফের ইচ্ছাকে তিনি সম্মান জানাবেন, এটা ছিল অনুমেয়। অবশেষে সেটাই হলো। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন তিনি। আগামী চার বছরের জন্য সেলেসাওদের কোচ থাকছেন তিতে।

শুধু ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচই নয়, এবার সিবিএফ তিতেকে আরও অনেক বড় দায়িত্ব দিয়ে দিল। কোচ হিসেবে তার নিজের কাজের ক্ষেত্রে দিলো পূর্ণ স্বাধীনতা। যাতে চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপের জন্য তিনি পূর্ণাঙ্গ এবং শক্তিশালী একটি দল গঠন করতে পারেন।সে জন্য বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়েও নিজের মত করে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিতে।

অনুর্ধ্ব-১৯, অনুর্ধ্ব-২০ দলগুলোর উন্নয়ন এবং সেখান থেকে সঠিক প্রতিভা বের করে এনে জাতীয় পর্যায়ে যেন কাজে লাগাতে পারেন তিতে, সে ব্যপারে সিবিএফের পক্ষ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তিতেকে।২০১৬ সালের আগস্টে কার্লোস দুঙ্গাকে সরিয়ে তিতের কাঁধে তুলে দেয়া হয় ব্রাজিল দলের দায়িত্ব। যে সময় ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিতে, তখন দলটির অবস্থা ছিল যাচ্ছেতাই। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ধুঁকছিল।

নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যই যেন ভুলে গিয়েছিল দলটি। সেখান থেকে তিতের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা এবং পুরো বিশ্ব থেকেই প্রথম দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে নাম লেখায় ব্রাজিল।রাশিয়ায়ও অন্যতম শক্তিশালী দল নিয়ে সেরা ফেবারিটের তকমা নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল তিতের ব্রাজিল। রাশিয়ায় সব কিছুই ঠিক মত চলছিল; কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে সম্পূর্ণ ভাগ্যের বিপরীতে খেলতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।

একের পর এক সুযোগ মিস করার কারণে এবং বেলজিয়ামের অসাধারণ ও দুর্দমনীয় গতির কাছে হারতে মানতে হয় ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিদায় নিতে হয় ২-১ গোলে। অথচ, এর আগে তিতের অধীনে ২১ ম্যাচের মাত্র ১টিতে হেরেছিল ব্রাজিল।ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন চায়, কাতার বিশ্বকাপের জন্য তাদের জাতীয় দলে নতুন রক্তের প্রবাহ তৈরি করতে।

এখন থেকেই যেন এ নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করে ভালোভাবে কাজ করতে পারেন তিতে, সে লক্ষ্যে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে তাকে।২০১৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর তিতে সময় পেয়েছিলেন ২ বছর। দলে নতুন রক্তের সঞ্চার করার সুযোগ পেয়েছেন কম। যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই কাজ করেছেন। এবার তিনি পুরোপুরি চার বছর সময় পাচ্ছেন।

সুতরাং, চার বছর পর হয়তো নতুন চেহারার ব্রাজিলকেই দেখতে পাবে কাতার বিশ্বকাপ।-সূত্র: জাগোনিউজ২৪