লুঝনিকিতে ওয়েম্বলি ফেরাতে পারবে ক্রোয়েশিয়া ?

রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায়।২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ৫২ বছর পর ফাইনালে ওঠার হাতছানি ‘থ্রি লায়নস’দের সামনে।

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয়বারের সেমিফাইনালে খেলবে। ১৯৯৮ সালে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই শেষ চারে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠতে পারবে ক্রোয়াটরা?ইতিহাস বলছে, ইংল্যান্ডের সঙ্গে আগের সাতবারের দেখায় চারবারই হেরেছে ক্রোয়েশিয়া।

তারা জিতেছে দুটি, একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র।ক্রোয়েশিয়ার দুই জয়ের সবশেষটি আজ তাদের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণা। ২০০৭ সালের নভেম্বরে লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে ২০০৮ ইউরোতে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড।

বৃষ্টি জবজবে ওয়েম্বলির ডাগআউটে তখনকার ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ ম্যাক্লারেনের ছাতা ও কফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য এখনো অনেকে চোখে ভাসবে।ইউরোর টিকিট নিশ্চিত করতে ইংল্যান্ডের সেদিন দরকার ছিল এক পয়েন্ট। ক্রোয়েশিয়ার ইউরো নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। ম্যাচ শুরুর আগেই সেদিন ওয়েম্বলিতে তুমুল বৃষ্টি।

জন টেরি, রিও ফার্দিনান্ড, গ্যারি নেভিল, ওয়েইন রুনি, মাইকেল ওয়েন চোটের কারণে ইংল্যান্ড দলে নেই। অ্যাশলে কোল ও ডেভিড বেকহামকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান কোচ ম্যাক্লারেন।আট মিনিটে নিকো ক্রাঞ্জকারের দূরপাল্লার শটে গোল, এর একটু পর আইভিকা ওলিচের গোলে ১৪ মিনিটেই স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা যেন তখন দুঃস্বপ্ন দেখছিল!

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দ্বিতীয়ার্ধে বেকহাম ও জার্মেইন ডিফোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান ম্যাক্লারেন। নয় মিনিট পর ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের পেনাল্টি গোলে ব্যবধান কমায় ইংল্যান্ড। ৫৬ মিনিটে বেকহামের দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে পিটার ক্রাউচের ভলিতে সমতাও ফেরায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু সেই স্বস্তি ১১ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি!ম্লাডেন পেটরিচের গোলে আবার এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়াটরা, ওদিকে একই গ্রুপে অ্যান্ডোরার বিপক্ষে রাশিয়ার ১-০ গোলের জয়ে ইউরোর আশা শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের।

পরদিনই ইংল্যান্ড কোচ ম্যাক্লারেন চাকরি হারান, দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাস পর।

২০০৮ ইউরোতে দর্শক হয়ে থাকা ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়েছে বছর খানেকের মধ্যেই। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে থিও ওয়ালকটের হ্যাটট্রিকে ক্রোয়েশিয়াকে তাদের মাঠেই হারায় ৪-১ গোলে, দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় অবশ্য দশজন নিয়ে খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া।

এক বছর পর ওয়েম্বলিতে ফিরতি ম্যাচেও ক্রোয়েশিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। ইংলিশরা ম্যাচ জেতে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে। তবে ইংল্যান্ড হয়ত ৩-২ গোলে হারের সেই দুঃস্মৃতি এখনো মুছে ফেলতে পারেনি।

আজ ইংল্যান্ডকে আরেকটি দুঃস্বপ্ন উপহার দিতে পারবে ক্রোয়েশিয়া? নাকি ইংল্যান্ড সেই ক্ষতে সান্ত্বনার প্রলেপ দেবে? জবাব মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরই।

তথ্যসূত্র : স্কাই স্পোর্টস, ডেইলি মেইল।