সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন মড্রিচ

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার করার পর থেকেই ব্রিটিশদের মধ্যে অদ্ভুত এক উন্মাদনা শুরু হয়। ইংলিশরা যেনো ধরেই নিয়েছিলো, রাশিয়া বিশ্বকাপটা তারাই জিতবে। বড় দলগুলো একে একে বিদায় নেয়ায় তাদের এই ‘আত্মবিশ্বাস’ যেনো আরও বেড়ে যায়।

ব্রিটেনের শক্তিশালী গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সমর্থক- সবার মুখে মুখে ছিলো একটাই কথা, ‘ইট’স কামিং হোম’। তবে সেমিফাইনালের পরে সেই কথাটাই হয়ে গেছে, ‘উই আর কামিং হোম।’ আপাতত ইংলিশ গণমাধ্যমের কষ্টে ভরা রসিকতা এমনই।

বলা হয়, আধুনিক ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। এই খেলার যত্নটা তারা যেভাবে নিয়ে আসছে সেটা অন্য কেউ পেরেছে কিনা সন্দেহ। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কী যেনো হয়ে যায় ইংল্যান্ডের! ১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলো ইংল্যান্ড। এরপর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দী। রাশিয়া বিশ্বকাপে গোছালো একটি দলই নিয়ে এসেছিলো ইংল্যান্ড।

ভাগ্য ছিলো সুপ্রসন্ন। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচে হারটাই যেনো শাপে বর হয় তাদের জন্য। সহজ অর্ধে পড়ে বড় কোন পরীক্ষা দিতে হয়নি সেমিফাইনালে পৌঁছতে। অথচ, বাঘ-সিংহের লড়াইয়ে একে একে ঝরে পড়েছে বড় দলগুলো। সেটাই হয়তো বেশি করে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলো ইংলিশদের।

অন্যদিকে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বারের মতো সেমিফাইনালে খেলেছে তারা। শুধু তাই নয়, সে বারের উচ্চতাকে টপকে গেছে দেশটির সোনালী প্রজন্মের ফুটবলাররা। মদ্রিচ, রাকিটিচ, মানজুকিচদের উদ্যোম রুখার সাধ্য আছে কার? তাইতো ১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেও লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে। ছিনিয়ে নিয়েছে জয়।

প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থেকে আরও পর্দা সরে গেলো। রোববার ফরাসি দুর্গ ধ্বসিয়ে দিতে পারলেই বিশ্বজয়ের মুকুট পরবে ক্রোয়েটরা।