বস্তি থেকে বিশ্বকাপ, দিন বদলের নায়ক এমবাপ্পে

সারা বিশ্বের চোখে প্যারিস মানে ঝলমলে এক শহর। যে শহরে বুকটান করে দাঁড়িয়ে আছে আইফেল টাওয়ার। যা পৃথিবীকে জানিয়ে দিচ্ছে প্যারিস মানে প্রেম আর রোমাঞ্চের নগর, প্যারিস মানে শিল্প-সঙ্গীত আর বৈভবের অহমিকা। কিন্তু প্যারিসের গা ঘেষে মহাখালির রেললাইনঘেরা বস্তির মতো পল্লীও আছে, সে খবর আর কজন রাখে! কেউ রাখুক বা না রাখুক, পৃথিবীর তা জানা হয়ে যায়। সে খবর নিয়ে পৃথিবীর বুকে হাজির হন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।পিএসজি তারকা এমবাপ্পে বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন ফ্রান্সের জার্সি গায়ে।

মনে করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপ এ কজন বিশ্ব তারকার জন্ম দিলো, এমবাপ্পে তাদের একজন। অসাধারণ সৃষ্টিশীল এই ফরোয়ার্ড ফ্রান্সকে দেখাচ্ছেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। যে স্বপ্ন পূরণের পথে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখে ফেলেছে ফ্রান্স।আজ যে এমবাপ্পে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সেই তার উঠে আসার গল্পটা কিন্তু সহজ নয়। বরং জীবনের এক কঠিন অধ্যায় পারি দিয়ে, বস্তি জীবনের দুঃসহ দিনেদের হজম করে বিশ্ব মঞ্চে আসতে হয়েছে তাকে।এমবাপ্পে যেখানে বড় হয়েছেন, প্যারিসঘেষা সেই পল্লীকে বিশ্ব চিনে ‘বন্ডি’ নামে।

ফরাসি ভাষায় যা ‘বঁলিউ’। যেখানে জীবন মানে হাঙ্গামা। যেখানে সময় মানে অস্ত্রের ঝনঝনানি। যেখানে মৃত্যু আর জীবন চলে হাত ধরাধরি করে। কৈশর পেরোতে না পেরোতেই যেখানে একটু বখাটে হলেই ছেলের হাতে উঠে মরণাস্ত্র।সেই বন্ডিতে জীবনের সোজাপথে থাকা মানে পায়ে ফুটবল রাখা। সেখানে যে সন্তানের পায়ে ফুটবল ঘোরে, সেই সন্তানের বাবা-মা ততো চিন্তামুক্ত। এমবাপ্পের সৌভাগ্য। তার হাতটা ছোটবেলায় খালি ছিলো। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো ছাপ পড়েনি। তার বদলে তিনি পায়ে তুলে নেন ফুটবল।

কংক্রিটের ছোট মাঠে হয়ে উঠেন বিদ্যুৎগতির ফুটবলার। বস্তির সংকীর্ণ মাঠই এমবাপ্পেকে দিয়েছে ফুটবলারের বিস্তৃত জীবন।অপরাধের আখড়ায় থাকলেও এমবাপ্পের স্বপ্ন বুনেছেন ফুটবল নিয়ে। যে স্বপ্ন বস্তির গলি থেকে তাকে নিয়ে এসেছে বিশ্বকাপের উত্তপ্ত মঞ্চে। যেখানে তার নামে উঠে কানফাটানো স্লোগান। বিশ্বাস ও স্বপ্ন দেখার শক্তি যে মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়, দিন বদলের নায়ক বনে, এমবাপ্পে যেনো প্রমাণ করেছেন সেটাই।