বারমাসি জাতের আম আবিষ্কার!

ফলের রাজা আম নিয়ে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরলস গবেষণা করে একটি জাতের উদ্ভাবন করতে পেরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে স্বাদ, রঙ আর পুষ্টিদায়ী জাত উদ্ভাবন করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থাটি দীর্ঘকাল গবেষণা করে এমন একটি জাত আবিষ্কার করেছে যা বছরে একবার নয়, তিন-তিনবার ফল দিবে। এটা সত্যি হলে এখন থেকে  সারাবছই বাজারে পাওয়া যাবে আম।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড়তলী উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র এ জাতটির আবিষ্কার করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে বারি-১১। একে বলা হচ্ছে বারমাসি জাতে আম। ২০১৫ সালে এ জাতটি মুক্তায়ন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আম। কৃত্রিম হাইব্রিড নয়। এটি প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণে সৃষ্ট। এ জাতের সৃষ্টি হয়েছে মৌমাছির মাধ্যমে। মধু সংগ্রহের জন্য যখন মৌমাছি কোনো একটি জাতের আমের মুকুলে বসে, তার আগে হয়তো অন্য কোনো জাতের মুকুল থেকেই সে ওঠে আসে। আর এভাবেই পরাগায়নের ফলে এই ধরনের সংকরায়ন ঘটেছে। এ জাতটির এভাবেই সৃষ্টি। যা পাহাড়তলী উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণের পর নিশ্চিত হয়েছে।

বারি-১১ বা বারমাসি এ আমের জাতটি এখন দেশের সব উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রেই চাষ হচ্ছে। রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হামিম রেজাই বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানালেন বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। এখন অপেক্ষা এই জাতটি দেশের আনাচে-কানাচে জড়িয়ে দেওয়া। এতে সারাবছরই মানুষ আমের স্বাদ নিতে পারবেন।

উচ্চফলনশীল এ প্রজাতি বছরে তিনবার ফল দেবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি, এপ্রিল ও জুলাই-আগস্টে এ আম পাওয়া যাবে। এটি খুবই খেতে সুস্বাদু। তবে আঁশ আছে। এটি আকারে লম্বাটে, অনেকটা অংকের ৫ এর মতো দেখতে। প্রতিটি আমের গড় ওজন হয় ৩১৭ গ্রাম।

কাঁচা আমের ত্বক হালকা সবুজ। আর পাকলে ত্বক হয় হলুদাভ সুবজ। লম্বায় ১১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার এবং পুরু ৭ সেন্টিমিটার। আঁটির ওজন ২৫ গ্রাম অর্থাৎ পাতলা আঁটির আমটির ৭৯ ভাগ খাওয়া যায়। মিষ্টতার পরিমাণ ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ টিএসএস। এই গাছে একসঙ্গে পুরোটা জুড়ে মুকুল আসে না। তাই একটি মুকুলের আম যখন পাকার উপযোগী তখন আরেকটিতে আমের আকার মাত্র মারবেলের মতো।—বিডি মর্নি