আশ্চার্য হওয়ার মতনই ঘটনা; নাটোর ও পাবনার আকাশে হঠাৎ সূর্য বলয়ের দৃশ্য!

ঘড়িতে তখন সকাল প্রায় ১১টা বাজে। মেঘে ঢাকা আকাশ। কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। অধিকাংশ মানুষের নজর তখন আকাশের দিকে। উপরে তাকাতেই দেখা মিলল সূর্যের চারপাশে অভাবনীয় সুন্দর আলোর বলয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ওই বলয়টা ১০ সেকেন্ড স্থায়ী হওয়ায় পর তা ধীরে ধীরে মিলিয়েও যায়। বিরল এই দৃশ্য অল্প সময় দেখা দেওয়ার কারণে সবার নজরে পড়েনি। আর যারা দেখেছেন তারা দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত। মোবাইল ফোনে ছবিও তুললেন কেউ কেউ।

তাদের অনেকে জানান, হালকা মেঘে ঢাকা আকাশের দিকে তাকাতেই এমন বিরল ও অভাবনীয় সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়ে। কেউ বললেন সূর্যের আলোর বলয়। কেউ বললেন রঙধনু।

তবে এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতাংশু কুমার পাল বলেন, এটা সূর্যগ্রহণ নয়। অনেক সময় আকাশে থাকা জলীয় বাষ্পের কারণে এমনটা ঘটে থাকে। জলীয় বাষ্পে সূর্যের আলো পড়লে তা বিচ্ছুরিত হয়, আর তখন এ ধরনের বলয় দেখা যায়।

এদিকে দুপুরে পাবনার আকাশেও সূর্য বলয় দেখা গেছে। এ সময় অনেকে ছবি তোলেন আবার অনেকে ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এটি কোনো খারাপ কিছু নয়, এটির নাম ‘হ্যালো’।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পূর্বাকাশে সূর্যের চারদিকে একটি অদ্ভুত গোলাকার আলোকরশ্মির সৃষ্টি হয়। কিছুটা রঙধনুর মতো দেখালেও এটি কালো বৃত্তাকার ছিল। বিষয়টি নিয়ে সবার কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। দেড়টার দিকে রশ্মিটি আকাশে মিলিয়ে যায়।

পাবনার ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী মৃধা সমকালকে বলেন, ‘আমার ৬০ বছরের জীবনে এ ধরনের জিনিস দেখিনি। তাই ছবি তুলেছি।’

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এএইচএম মঞ্জুর মামুন সমকালকে বলেন, আমাদের মত নিম্ন অক্ষাংশের দেশে এটি সাধারণত দেখা যায় না। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘হ্যালো’। এটি প্রবল বৃষ্টিপাত বা ঝড়ের লক্ষণও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বাকাশে মেঘ বা বরফের সূক্ষ্ণ কণা যখন সূর্যের অথবা চাঁদের চারদিকে থাকে তখন এরকম বলয় বা হ্যালোর সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি রঙধনু নয়।

সূত্র: সমকাল।