বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার যত রেকর্ড

প্রায় শেষ প্রান্তে। এখন বাকি দুইটি ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল। সেমিফাইনালের দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ শেষ বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের। তারাই আগামীকাল ১৪ জুলাই, শনিবার রাত ৮টায় সেন্ট পিটার্সবুর্গে নামবে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে।

কাপ ছোঁয়ার লক্ষ্যে এসে তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া ধর্তব্য না, মর্যাদার তো নয়ই। অন্য ম্যাচকে বলা যায় মূল ম্যাচ। ১৪ জুন যাত্রা শুরু হয়ে এ পর্যন্ত আসা তার জন্যই। প্রায় এক মাস সবুজ চত্বরে চর্মগোলক গড়াগড়ি খেয়েছে এ একটি ম্যাচের জয়ী নির্ধারণ করবে বলেই। আরও এগিয়ে চার বছর সারা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা এ একটি ক্ষণের অপেক্ষা করে।

কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি? সব উত্তর মিলবে মস্কোতে, ১৫ জুলাই রোববার রাত ৯টা ও এর পরবর্তী ৯০ মিনিটে। এর বেশিও হতে পারে। যা হবার হোক। তবুও হোক। মানে বিশ্ব দেখুক নতুন চ্যাম্পিয়নদের। আর তা হতে এ পর্যন্ত বন্ধুর পথ পেরিয়ে এসেছে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া।

এ পথে তারা অনেক রেকর্ড গড়ে এসেছে। এখানে কথা হবে ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে-

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব প্রচলনের পর ক্রোয়েশিয়াই প্রথম দল যারা টানা তিন ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ক, কোয়ার্টারে রাশিয়া ও সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এ প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবেন মদ্রিচ-রাকিতিচরা।

নকআউট পর্বে টানা তিন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলা দ্বিতীয় দল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল খেলেছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। তবে সেমিতে গিয়ে ইংল্যান্ড হারলেও ক্রোয়েশিয়া এবার ফাইনালে উঠেছে।

গত ৪০ বছরে তৃতীয় নতুন দল হিসেবে ফাইনালে পৌঁছাল ক্রোয়েশিয়া। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে স্পেন নতুন দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছিল। দুবারই জয়ী হয়েছে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠা দলটিই।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে গোল পেয়েছেন ইভান পেরিসিচ ও মারিও মানজুকিচ। দুজনেরই এটি বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের চতুর্থ গোল। তাদের চেয়ে গোলের দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন শুধু ডেভর সুকার, বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ৬।

সেমিফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে ওঠা ৭ম দল হলো ক্রোয়েশিয়া। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ে, ১৯৩৮ সালে হাঙ্গেরি, ১৯৫৮ সালে সুইডেন, ১৯৭০ সালে ইতালি ও ব্রাজিল ও সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স সেমিতে পিছিয়ে পড়ে ফাইনালে উঠেছিল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল লুকা মদ্রিচের ১১তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এ ম্যাচে মাঠে নামার মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দারিও সিমিকের রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি। ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ মিলে ১১টি ম্যাচ খেলেছিলেন সিমিক। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হবেন মদ্রিচ। এর আগে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলেছেন মদ্রিচ।

১৯৯৮ সালের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতেছিল ফ্রান্স। গত ৪ বিশ্বকাপে সেমিতে পিছিয়ে পড়ে আর কেউই জিততে পারেনি। কাল ২০ বছর পর প্রথম দল হিসেবে সেমিতে পিছিয়ে পড়েও ফাইনালে উঠল ক্রোয়েশিয়া।