ইংল্যান্ডের হারের পাঁচ কারণ

রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে থেমেছে ইংল্যান্ডের রথ। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে ফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে দলটির। অথচ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ধরা হয়েছিল ফেভারিট। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজিত দল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিতে ইংল্যান্ডের হারের কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো….

খেলার ধরনে পরিবর্তন : ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ খেলেছে ইংল্যান্ড। ১-০ তে এগিয়ে থেকে বিশ্রামে গিয়েছিল গ্যারেথ সাউথগেটের দল। ৫২ শতাংশ বল পজেশনে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা। প্রথমার্ধে লং পাসে খেলেন হ্যারি কেনরা। ইংলিশদের গতির কাছে অনেকটা অসহায় মনে হয়েছিল ক্রোয়েটদের। অথচ ম্যাচে এগিয়ে থাকা দলই দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ধরনে আনে পরিবর্তন। বল নিজেদের মধ্যে দেওয়া-নেওয়া করে আক্রমণের পসরা সাজায়। এ কৌশল অবশ্য কাজে আসেনি। উল্টো মড্রিচ-মানজুকিচদের গতি আর আক্রমণের কাছে শেষ পর্যন্ত সাউথগেটের কৌশল হার মানে।

নিষ্প্রভ হ্যারি কেন : বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পারফরম্যান্সে দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন। গ্রুপপর্বে দুই ম্যাচেই করেন ৫ গোল। এর মধ্যে পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও ছিল। নকআউটপর্বে এক গোল করেন। সব মিলে ৪ ম্যাচে ৬ নিয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের আশার প্রদীপ হ্যারি সমর্থকদের হতাশ করেছেন। ১২০ মিনিটের খেলায় দু-তিনবারই কেবল বল নিয়ে প্রতিপক্ষের শিবিরে হানা দিতে দেখা গেছে তাকে। তবে সেসব আক্রমণ জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

অসহায় আলী : ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি বল ছিল ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেলে আলির পায়ে। বারবার বল নিয়ে ক্রোয়েটদের সীমানায় হানা দিয়েছেন আলী। কিন্তু যোগ্য সঙ্গীর অভাবে আলির বাড়ানো বল কিংবা সাজানো আক্রমণগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। যার প্রভাব ম্যাচে যেমন পড়েছে, তেমনি আলির ওপরও। ম্যাচে বেশ কয়েকবার আলিকে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে। তর্কে জড়িয়েছেন রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও।

মানসিক দুর্বলতা, ক্লান্তি : ম্যাচের শুরুতে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৬৭ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রাখে দলটি। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিল খুব সহজেই ম্যাচটি জিততে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ৬৮ মিনিটে পেরিসিচের গোল দৃশ্যপট বদলে দেয়। গোলের পর উজ্জীবিত হয়ে ওঠে ক্রোয়েটরা। উল্টো অবস্থা ইংল্যান্ডের। পেরিসিচের গোলের পর যেন মানসিক চাপ ভর করে সাউথগেটের শিষ্যদের। ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় তখন হ্যারি কেনদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি ভাবও দেখা গেছে। সেই তুলনায় অনেকটাই উজ্জীবিত ছিলেন মড্রিচ, রাকিটিচরা। কারণ নকআউটপর্বের শুরু থেকেই অতিরিক্ত সময়ে খেলে আসছে দলটি। ক্লান্তি ভর করার কথা ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের ওপর। কিন্তু ম্যাচে দেখা গেছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র।

অভিজ্ঞতা : ইংল্যান্ডের চেয়ে ক্রোয়েশিয়ায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে মড্রিচ, রাকিটিচ, মানজুকিচরাই যথেষ্ট। ম্যাচে সেটাই হয়েছে। অভিজ্ঞ মানজুকিচ অতিরিক্ত সময়ে গোল তুলে নিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। মাঝমাঠ থেকে বল জোগানোর কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেছেন রাকিটিচ। সেই সঙ্গে গোলবারে অতন্দ্রপ্রহরী সুবাসিচ তো ছিলেনই।