‘ক্রিকেট খেলা আর দেশ চালানো এক নয়’ ইমরানকে আজহারউদ্দিন

ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে এসেছেন ইমরান খান। সাবেক পাকিস্তানি কিংবদন্তি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দুটি সম্পূর্ণ আলাদা মঞ্চ। নেতৃত্বের ধরণও আলাদা। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন দেখে ক্রিকেটাঙ্গণে অনেকে আনন্দ প্রকাশ করেছে। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন একসময়ের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন ইমরানকে।

আজহার বলেছেন, ‘আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি তাকে। পাশাপাশি, অনুজ ক্রিকেটার এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে একটা কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দেব। একটা ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন্সি করা আর দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া কিন্তু এক নয়। ইমরান নিজে ক্রিকেট জীবনে খুব ভালো ক্যাপ্টেন তো ছিলেন। দারুণ বোলারও ছিলেন। বিশেষ করে তার ইনডিপারগুলো খেলতে ব্যাটসম্যানেরা সব চেয়ে সমস্যায় পড়ত। প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দিকে কিন্তু এ রকম অনেক মারাত্মক ডেলিভারি ধেয়ে আসবে। সেগুলোকে কী ভাবে উনি সামলান, সেটাই ঠিক করে দেবে তার ভাগ্য।’

‘আমি রাজনীতির মাঠের নেতা ইমরানের কথা বলতে পারব না। কারণ, ওই দিকটা আমি দেখিনি। মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ ক্যাপ্টেন হিসেবে তাকে দেখেছি। খুবই স্পোর্টিং ছিলেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এত ধুন্ধুমার ব্যাপার থাকে। দুই দেশের মানুষ সব কিছু ছেড়ে এই একটা ম্যাচে জিততে চায়। বিশ্বকাপের মতো আসরে দেখেছি, মানুষ চাইছে কাপ না জিতলেও চলবে। পাকিস্তানকে হারাও। ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে বেশির ভাগ ম্যাচে আমার সময়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছি। নানা প্রতিক্রিয়া দেখেছি ম্যাচের পরে।’

‘কিন্তু ইমরান আপসহীন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কখনও সৌজন্য হারাননি। ভাল ইনিংস খেললে আমাকে অনেক বারই মাঠের মধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুধু আমাকে নয়, অনেক বারই দেখেছি ভারতের ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করলে বা মাইলস্টোন পৌঁছলে ইমরান হাততালি দিয়েছেন বা এসে হাত মিলিয়ে গিয়েছেন।’

‘আমাদের সময়কার খুব জনপ্রিয় তারকা ছিলেন ইমরান। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে স্মরণীয় এক চরিত্র। বিশ্ব ক্রিকেটে তার কথার ওজনও ছিল অনেক। তাই তার প্রশংসা পেলে তরুণ ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত খুলে যেত। প্রতিপক্ষ দলের হলেও তরুণদের প্রশংসা করা থেকে কখনও পিছিয়ে থাকেননি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমি ইমরানকে পিটিয়ে রান করেছিলাম। তার পরে কিন্তু কটাক্ষ বা স্লেজিং করতে দেখিনি তাকে। বরং প্রশংসাই করেছিলেন।’

‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইমরানকে পরিচালনা করবে কিনা, সেই সব তর্কে এত দূরে বসে মন্তব্য করা কঠিন। তবে একটা কথা বলব, ক্রিকেট মাঠে দাঁড়িয়ে ইমরান তার নিজের সিদ্ধান্ত নিতেন। কারও সাহস হতো না মাঝখানে আসার। প্রধানমন্ত্রী ইমরান নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। যদি পারেন, তবে পাকিস্তানের মানুষ ক্রিকেটের মতোই রাজনীতিতে দারুণ একজন ক্যাপ্টেন পাবে।’