আসামের বাংলা ভাষীরা ১৯৭১ সালের পরে এসেছে প্রমাণ কী?

ভারতের আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৪০ লাখ বাঙালিকে। বাঙালি খেদাও অভিযান চালাতেই এটা ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের গেমপ্ল্যান। আজ দিল্লি যাওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম-এর মুখেও।

আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণের চূড়ান্ত খসড়ায় জায়গা পাননি ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এই তালিকাই চূড়ান্ত হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকবে না তাঁদের। এই তালিকার তুমুল সমালোচনা করে আজ মঙ্গলবার দিল্লি যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলন করলেন ‘উদ্বিগ্ন’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘৪০ লাখ বাঙালিকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আধার, ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ভারতীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। তথ্য দিয়েও তাঁরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।’

বাঙালিদের জোর করে তাড়াতেই এই গেমপ্ল্যান করা হয়েছে বলে তোপ দেগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র পদবীর ভিত্তিতে বহু মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সমস্ত যোগাযোগ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতেই আরও সন্দেহ বাড়ছে। বাড়তি কেন্দ্রীয় কোম্পানি দিয়ে বুলডোজ করা হবে নাতো? অনেক পরিবার চার-পাঁচ পুরুষ ধরে বাস করছে। তারাই আজ উদ্বাস্তু।’

মমতার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্ক চিনে নিয়ে বিরোধী ভোটারদের তাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের জন্য কেন নতুন আইন প্রণয়ন হল না, সেই প্রশ্নও তোলেননি। মনে করিয়ে দেন, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানুষেরা রোহিঙ্গা নন।

এদিকে, মমতার সুরই শোনা গিয়েছে সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর গলায়। তিনি বলেন, ‘এনআরসি প্রমাণ করুক এঁরা ১৯৭১ সালের পরে এসেছেন। বাংলাভাষী মানে বাংলাদেশি এই ধারণা ভুল। ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব হতে পারে না। ৪০ লাখ লোকের নাম নেই এটা ভয়ংকর। ১৯৭১ পর এসেছে এমন মানুষ কমই।’তিনি আবার বিধানসভায় এই বিষয়ে আলোচনা চেয়েছেন।—কালের কন্ঠ অনলাইন