নৌমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন হাছান মাহমুদ

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ‍দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের জন্য নিজের ভুল বুঝতে পেয়ে ক্ষমা চাওয়ায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ধন্যবাদ জানান হাছান মাহমুদ।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। উত্তরাগামী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর ফ্লাইওভার থেকে নেমে অপর একটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই সড়ক দুর্ঘটনার পর গণমাধ্যমে দেওয়া নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য তার নিজস্ব বক্তব্য বলে উল্লেখ করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্যের সাথে আমরা ও আমাদের দল কোনোভাবেই একমত নই। তবে তাকে ধন্যবাদ, তিনি তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কখনই ভাবেনি তাদের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। তারা কখনো ভাবতে পারেনি বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ তাদের বিচার করবে এবং ফাঁসির রশিতে তাদের ঝুলতে হবে। সেই কারণে তারা দম্ভ করে বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল এবং হত্যাকারীদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের কৃতিত্ব নেওয়ারও প্রতিযোগিতা ছিল। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে নাই। শুধু বিচার হয়নি, বিচারের রায়ও কার্যকর হয়েছে এবং যারা এখনো পালিয়ে আছে ইনশাআল্লাহ তাদেরকেও দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে হত্যাকাণ্ড ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। সেই কারণে যারা ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল তাদের বিচার করতে হবে এবং জাতির সামনে তাদের মুখোশ উম্মোচন করতে হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডর নেপথ্যে যারা জড়িত ছিল এখনি সময় তাদের মুখোশ উম্মোচন করা। অন্যথায় একশ বছর পরের প্রজন্ম জানতে পারবে না এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের কুশীলব কিংবা কারা এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি রচনা করেছিল।’

সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগেরে এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি আগামী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই নানা ষড়যন্ত্রেলিপ্ত এবং কোনো অযুহাত পেলেই সেখানে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করে। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।