তৃতীয় বর্ষপূর্তি পালনে বিলুপ্ত ছিটমহলে নানা আয়োজন

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট: ছিটমহলের বন্দি দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার দিনটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করেছে লালমনিরহাটের অধুনালুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা ছিটমহলগুলো বিনিময় করা হয়। এর মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার সমাপ্তি হয়।

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় লালমনিরহাটের ৫৯ টি ছিটমহল। এরপর নাগরিকত্বসহ সকল নাগরিক অধিকার ফিরে পায় তারা। তাই প্রতিবছর ছিটমহল বিনিময়ের দিনটিকে ঘটা করে পালন করে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার ছিটমহল বিনিময়ের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে সদর উপজেলার ভিতরকুঠি বিলুপ্ত ছিটমহলের সালেহা সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নতুন নাগরিকরা। এ সময় শহীদ মিনারে ছিটমহলের বঞ্চিত জীবনের ৬৮ বছরের জন্য ৬৮টি মোমবাতি এবং ছিটমহল বিনিময়ের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনটি মশাল প্র্জ্বালন করা হয়। পরে সবার কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

বুধবার সকালে ভিতরকুটি বিলুপ্ত ছিটমহলের সালেহা সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বিদ্যালয় চত্বর থেকে একটি বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিলুপ্ত ছিটমহলের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড.মতিয়ার রহমান, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ফেরদৌসী বেগম বিউটি, সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল হক বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিলুপ্ত ছিটমহলের শত শত জনসাধারন, ছাত্র লীগ, যুব লীগ, সেচ্ছা সেবক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে পিছিয়ে থাকা বিলুপ্ত ছিটহলগুলোতে চালু হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ নানা উন্নয়নমুখী কাজ। তবে তাদের জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল সমস্যা কাটেনি এখনো। ফলে জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ ভাগবণ্টন বন্ধ রয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ের পর পরই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি ছিটমহলে শুরু হয় সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উন্নয়নমূলক কাজ। পিছিয়ে থাকা এসব মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ করে সরকার।

বিলুপ্ত ছিটমহলে বিদ্যুৎ সংযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, রাস্তাঘাট, সেতু কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যালয় স্থাপন, স্যানিটেশন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধিত হয়। এদিকে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকলেও কৃষি নির্ভর এসব মানুষের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির মালিকানা নির্ধারণ। জেলার ৫৯টি বিলুপ্ত ছিটমহলে ৩২৩৮.৭২ একর জমি রয়েছে। আর এসব জমির মালিকানা সংক্রান্ত খতিয়ান, মাঠ রেকর্ডের পরচা, খারিজের কাগজ না পেয়ে ওয়ারিশদের মাঝে জমির ভাগ বণ্টন বা জরুরি কোনো প্রয়োজনে ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারছেন না তারা। ফলে প্রতিনিয়ত নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাটের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন হলে জমির রেকর্ডগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে হন্তান্তর করা হবে। রেকর্ড হন্তান্তর হলে ছিটমহলের বাসিন্দাদের জমি সংক্রান্ত যে সমস্যা আছে তা সমাধান হবে।