আমার ‘ভালো ছেলে’-র মগজ ধোলাই করা হয়েছিল: ওসামার মা

ওসামা একজন `ভালো ছেলে’ ছিলেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময় মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়ে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয়েছিলেন। নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম কোনও সংবাদপত্রে দেয়া তার প্রথম সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার ভাষায় এক ‘কাল্ট’ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়েন ওসামা। এরপরই পুরোপুরি বদলে যায় সে।

ঘানেম বলেন, ওই গ্রুপটি থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি তার ছেলেকে বারবার সাবধান করেছিলেন।গার্ডিয়ানের সাংবাদিক মার্টিন চুলোভের নেয়া সাক্ষাৎকারে ঘানেম বলেন, কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ার সময় ওসামা বিন লাদেন কিছু লোকের সংস্পর্শে আসেন। ওইসময় ওসামার বয়স ২০-এর কোঠায় ছিল। তারাই তার ছেলের মগজ ধোলাই করে।

আলিয়া ঘানেমের কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই লোকগুলোই ওসামাকে বদলে দেয়। সে একেবারে অন্যরকম মানুষ হয়ে যায়। আপনি বলতে পারেন এটা ছিল একটা কাল্ট। আমি তাকে সবসময়ই বলতাম ওদের থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু সে কখনও স্বীকার করেনি সে কী করছে, কারণ আমাকে সে খুবই ভালোবাসতো।

গার্ডিয়ানের সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত ছিলেন ওসামার ভাই হাসান।  তিনি বলেন, আফগানিস্তানে রুশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ১৯৮০-র দশকে দেশটিতে যান ওসামা। প্রথমদিকে সবাই তাকে সম্মান করেছে। শুরুর দিকে আমরাও তাকে নিয়ে গর্বিত ছিলাম। এমনকি সৌদি সরকারও তাকে সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখতো। তারপরই সে হয়ে উঠলো মুজাহিদ ওসামা।

তার মা ঘানেম বলছিলেন, ওসামা স্কুলে ভালো ছাত্র ছিল, পড়াশোনা ভালোবাসতো। সে তার সব টাকা-পয়সা আফগানিস্তানের পেছনে ব্যয় করেছে। পারিবারিক ব্যবসার ছুতো করে সে গোপনে কোথায় কোথায় চলে যেত।