হজ পালনকারীদের জন্য মদিনার ‘মসজিদে কুবা’ জিয়ারত ও ফজিলত

সারা বিশ্ব থেকে মুসলিম উম্মাহ জড়ো হচ্ছে নবির দেশ ও নবির শহর মক্কা ও মদিনায়। যারা আগে মক্কায় গেছেন তারা পরে মদিনা যাবেন। আবার যারা মদিনায় অবস্থান করছেন তারা হজের সময় মক্কায় চলে যাবেন। হজ পালনকারীদের জন্য মদিনার ‘মসজিদে কুবা’ জিয়ারতে রয়েছে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা। সংক্ষেপে মসজিদে কুবা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

‘কুবা’ মদিনা থেকে ৩ মাইল দুরের এক জনবসতি। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যাওয়ার পথে এ স্থানে যাত্রা বিরতি করেন।

কুবার অধিবাসী হজরত আমর বিন আওফ এবং হজরত কুলসুম বিন হাদাম আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বাড়িতে প্রিয়নবি অবস্থান করেন।

বর্তমানে কুবা যে কারণে বিখ্যাত সেটি হলো ‘মসজিদে কুবা’। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় গিয়ে প্রথমেই এ মসজিদ নির্মাণ করেন। আর এটিই ছিল মদিনার প্রথম মসজিদ।

হজরত কুলসুম বিন হাদাম আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে প্রিয়নবি এ মসজিদ নির্মাণ করেন। আর মসজিদে কুবার জায়গাটিও ছিল হজরত কুলসুম বিন হাদাম আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু।

প্রিয়নবি যখন মসজিদটি নির্মাণ করেন তখন মসজিদটির দের্ঘ ছিল ৬৬ গজ। ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে মসজিদে কুবা ২০ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়।

ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুবায় ১৪ দিন অবস্থান করেছিলেন।

এ মসজিদে কুবা অনেক মর্যাদা সম্পন্ন মসজিদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মসজিদে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

মর্যাদার দিক থেকে কাবা শরিফ, মদিনা শরিফ ও মসজিদে আকসার পরেই মসজিদে কুবার অবস্থান। এ মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘যে মসজিদ (মসজিদে কুবা) প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে নামাজ কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ্ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১০৮)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকালে আগে মদিনায় ১০ বছর অতিবাহিত করেছেন। এ সময় তিনি কখনো পায়ে হেঁটে কখনো উট কিংবা ঘোড়ায় চড়ে মসজিদে কুবায় যেতেন এবং ২ রাকাআত নামাজ আদায় করতেন।

বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় পাওয়া যায়, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি শনিবার কুবায় আগমন করতেন।

মসজিদে কুবায় নামাজ পড়া প্রসঙ্গে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে-
– হজরত ওসাইদ ইবনে হুজাইব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘সওয়াবের দিক থেকে মসজিদে কুবায় এক ওয়াক্ত নামায আদায় করা, একটি ওমরা আদায়ের সমতুল্য।’ (তিরমিজি)

– অন্য হাদিসে হাদিসে বর্ণিত আছে যে, ‘মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করলে একটি ওমরা করার সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে।’ (তিরমিজি)

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন তথা (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় যাবে এবং নামাজ আদায় করবে তাকে এক ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় থেকে মদিনাবাসীর প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় গিয়ে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করা অভ্যাস পরিণত হয়েছিল। সে ধারা এখনো বিদ্যমান।

হজ ও ওমরা পালনে যারাই মদিনায় যাবে তাদের উচিত, মদিনা থেকে সুন্নাত মোতাবেক ওজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারী ও জিয়ারতকে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।