ছোট ভাইবোনের সাথে যেমন হবে বড়দের আচরণ

কিছুদিন আগেও বড় ভাইবোনের আদেশ-নিষেধ ছোট ভাইবোনেরা অনেক কঠিন ভাবে পালন করে চলতো। কিন্তু এখন ভাইবোনের মধ্যে সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। এর সুবিধা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অনেক অসুবিধা। বড় ভাইবোনের মধ্যে ভালো বন্ধু খুঁজে পেলে ছোটরা নিজেরদের অনেক মনের কথা তাদের কাছে উপস্থাপন করে।

আবার অসুবিধা হলো বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে বড় ভাইবোনের আদেশ-নিষেধটা মেনে নেয় না অনেকেই। কিন্তু তাই বলে ছোটোদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা উচিৎ নয় একেবারেই। আবার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করাও বন্ধ করা উচিৎ নয়। মনে রাখবেন আপনাকে দেখেই আপনার ছোট ভাইবোন শিখবে। চলুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে সামলে নেবেন এই ধরণের পরিস্থিতি।

আদেশ নয় অনুরোধের সুরে কথা বলুন
খারাপ ব্যবহার করবেন না একেবারেই। ভালো করে কথা বলুন। প্রতিদিনের কথায় তাকে কোনো আদেশ দিতে চাইলে বুদ্ধি খাটান। তাকে আদেশের সুরে বলতে যাবেন না। অনুরোধের সুরে বলুন এবং কাজ শেষে তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দেবেন। আপনার এইসব আচরণ আপনার ছোট ভাইবোনকে অনেক বেশি প্রভাবিত করবে।

নিয়মিত সময় দিন ছোট ভাইবোনকে
তাদের সময় দিন। ছোট ভাইবোনের সাথে সময় পেলেই খেলাধুলা করুন। এবং ছোট ভাইবোনের পড়ালেখায় সাহায্য করুন তাদেরকে বুঝতে দিন আপনি তাদের কথা চিন্তা করেন এবং আপনার জীবনে তাদের গুরুত্ব রয়েছে।

ঝগড়ার সুরে বা উঁচু গলায় কথা বলবেন না
তাদের সাথে ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে ছোট ভাইবোনের মনে আপনার ওপর বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হবে এবং তারা আপনাকে সম্মান করতে চাইবে না। এমনকি তাদের সামনে অন্য কারো সাথে ঝগড়া করতে যাবেন না। সে আপনাকে অনুকরণ করে ঝগড়া করা শিখে নেবে।

বিরক্ত হবে না
কোনো কারণে ছোট ভাইবোন আপনাকে কাজের সময় বিরক্ত করতে তার ওপর রাগ করে কোন গালিগালাজ করে বসবেন না বা তাকে রুম থেকে বের করে দেবেন না। প্রথমে তাকে বিরক্ত করা বন্ধ করতে বলুন, যদি তাতে সে বুঝতে না পারে তবে তাকে কোনো কাজে ব্যস্ত করে দিন।

অভিভাবক হতে যাবেন না
অভিভাবকের মতো আচরন করবেন না। এতে সে আপনার সাথে হয়তো নিজের কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে। এতে করে আপনার ছোট ভাইবোনের মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণই করুন। অভিভাবকের মতো আচরনের জন্য আপনার বাবা-মা রয়েছেন।