বাংলাদেশের সবাই স্ট্রাইকার!

রাইটব্যাক আনাই মোগিনী ওভারল্যাপ করে বক্সের সামনে। সেন্টার মিডফিল্ড থেকে শামসুন্নাহারও বক্সে। নিজেদের অঞ্চল সামলে চকিত শটে কখনো তারা গোল করছেন, কখনো করাচ্ছেন। কে স্ট্রাইকার, কে প্লেমেকার কিছু বোঝার উপায় নেয়। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন বাংলাদেশকে দেখার পর কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন শুক্রবার সবকিছু বুঝিয়ে বললেন।

‘আমাদের দলে নির্দিষ্ট কোনো স্ট্রাইকার নেই। সবাই স্ট্রাইকার। যে কেউ দলের জন্য গোল করবে,’ জানিয়ে ছোটন বলেন, ‘আনাই প্রতি খেলায় গোল করছে। নীলা গোল করছে। আঁখি প্রত্যেক টুর্নামেন্টে গোল করছে।’

এভাবে দলগত ফুটবল খেলে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে প্রথম ম্যাচে ১৪ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।

উইঙ্গার শামসুন্নাহার জুনিয়র একাই করেছেন চার গোল। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার তহুরা খাতুন এবং সেন্টারব্যাক আনাই মোগিনী করেন দুটি করে গোল। সেন্টার মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডা, সেন্টারব্যাক আঁখি খাতুন, সেন্টার মিডফিল্ডার শামসুন্নাহার সিনিয়র করেন একটি করে গোল। ফরোয়ার্ডদের মধ্যে সাজেদা খাতুন দুই গোল করেন।

এই মেয়েরা যেখানেই খেলছে, সেখানেই সাফল্য পাচ্ছে। গত বছর ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার বিদেশের মাটিতে শুরুতেই চমক। এমন সাফল্যের রহস্য কী?

কোচ বলছেন ফিটনেস আর দলীয় বোঝাপড়াই সাফল্যের মূল কারণ, ‘আমাদের ভালো দিক হলো, প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত মেয়েরা একই ধারায় খেলতে পারে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। মেয়েদের ফিটনেস ভালো। বোঝাপড়াও দারুণ। এসব আমাদের জন্য বড় পাওয়া।’

১৩ আগস্ট নেপালের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। গত আসরে নেপালিদের ৬ গোল দিয়েছিলো লাল-সবুজের মেয়েরা। এবার তবু সাবধান কোচ, ‘ইতিমধ্যে সাত মাস চলে গেছে। তারা অনুশীলনে ছিল। নিশ্চয়ই উন্নতি করেছে।’

এই বয়সেই মেয়েদের মনোজগতে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব আনতে পেরেছেন ছোটন। সেটিও সাফল্যের বড় কারণ। ভুটানে টিম হোটেলের নিচে দাঁড়িয়ে শামসুন্নাহার সিনিয়র যা বললেন, তা শুনে মনে হল জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়, ‘একটা ম্যাচ চলে গেছে, এটা শেষ। এখন মাথায় নাই। সামনের ম্যাচে কেমন খেলব, সেটাই আসল কথা। প্রস্তুত থাকতে হবে সেই ম্যাচের জন্য।’

চার গোল করা ছোটো শামসুন্নাহারের কথায় পরিপক্বতার ছোঁয়া। নিজের চার গোলকে আহামরি বলতে রাজি নন তিনি। বরং দলগত ফুটবলকে প্রাধান্য দিলেন, ‘মিডফিল্ডার বল গুছিয়ে দেয়, তারপর আমরা গোল করি। ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার না। আগে দলের খেলা খেলবো, তারপর গোল। দল ভালো না খেললে, আমি তো গোল করতে পারতাম না।’

সূত্র: