আজ রোববার সূর্য ছুঁতে ছুটবে পার্কার

সূর্যের একেবারে কাছাকাছি যাওয়া অনুসন্ধানী যানের তালিকায় নাম লেখাতে সোলার প্রোব পার্কার’-কে আরেকটু অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। কারণ পার্কারকে সূর্যের কাছে পৌঁছে দেয়ার রকেট ‘ডেলটা ফোর’ আজ শনিবার উৎক্ষেপণ করা যায়নি।

বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুর দেড়টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কানাভরাল স্পেস সেন্টার থেকে বিশালাকার ভারী রকেট ডেল্টা-৪ এ চড়ে সূর্যের দিকে রওনা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ক্ষণগণনার একেবারে শেষ মিনিটে কারিগরি ত্রুটিতে ডেল্টা ফোরের উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে রোববার পার্কারকে বহনকারী ডেল্টা ফোর উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।

সোলার প্রোব পার্কার মিশনটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র সবচেয়ে দুঃসাহসী অভিযানগুলোর একটি।

আজ পর্যন্ত আর কোনো মিশনে কোনো অনুসন্ধানী মহাকাশযানকে সূর্যের এত কাছে পাঠানো হয়নি। পার্কার আমাদের সৌরজগতের একমাত্র তারার সবচেয়ে বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’র ভেতর ঢুকে তথ্য পাঠাবে। তাই এই মিশনের নাম দেয়া হয়েছে ‘টু টাচ দ্য সান’ (সূর্য ছোঁয়ার পথে)।

এর মধ্য দিয়ে সূর্যের করোনা কীভাবে কাজ করে সেটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন বিজ্ঞানীরা। আশা করা হচ্ছে এই মিশনে সূর্যের নানারকম আচরণ সম্পর্কে বহু রহস্যের সমাধান হবে।

প্রোবটির গতি ঘণ্টায় চার লাখ ৩০ হাজার মাইল। সাত বছরের মিশনে প্রোবটি ২৪ বার সূর্যের করোনা অঞ্চল প্রদক্ষিণ করবে। বিজ্ঞানীদের হাতে এ পর্যন্ত থাকা তথ্য থেকে মনে করা হয়, এই করোনাতেই পৃথিবীকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডগুলো শুরু হয়।

প্রদক্ষিণের সময় পার্কারকে প্রায় ১৩শ’ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে হবে। তবে প্রোবের ভেতরের তাপমাত্রা থাকবে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে রয়েছে সাড়ে চার ইঞ্চির তাপ নিরোধক কার্বন মিশ্রিত আবরণ।

সৌর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফুগনি পার্কারের নামে এই মহাকাশযানের নামকরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সূর্যের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করবে নাসা।

সূত্র:  চ্যানেল আই অনলাইন