বিপিএলের ছয় দলের রিটেন ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকা

গত মৌসুমের রংপুর রাইডার্স এর কাছে ফাইনালে হেরে শিরোপা হারায় সাকিব আল হাসানের দল ঢাকা ডায়নামাইটস। এখন পর্যন্ত বিপিএল এর পাঁচটি আসরের মধ্যে তিনটি শিরোপা উঠেছে ঢাকা ডায়নামাইটস হাতে। ২০১২ সালে বরিশাল বার্নার্সকে, ২০১৩ সালে চিটাগং কিংসকে। ২০১৬ সালে রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ঢাকা ডায়নামাইটস।

এছাড়া গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো বিপিএলে রার্নারঅাপ হয় ঢাকা ডায়নামাইটস। বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়লাভ করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। ৫ টুনামেন্ট মিলে ৬৪ মাসের মধ্যে ৪০ টি ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। প্রথম দুই আসর ঢাকা ডায়নামাইটস এর অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এরপর গত দুই মৌসুমে ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়কত্ব করছেন সাকিব আল হাসান। এবারের মৌসুমে সাকিব আল হাসানকে দেখা যাবে ঢাকা ডায়নামাইটসে। সাকিব আল হাসানকে সহ ঢাকা ডায়নামাইটস ধরে রেখেছে ৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ক্রিকেটার সুনীল নারায়ন, রভম্যান পাওয়েল ও কিরন পোলার্ডকে ধরে রেখেছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

রাজশাহী কিংস : গত মৌসুমে রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম এবং মোস্তাফিজুর রহমান। বিপিএলে এবার মৌসুমী এই দুইজন জন ক্রিকেটারই ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো একজনকে ধরে রাখতে পারবে রাজশাহী কিংস। তাই মুশফিকুর রহিমকে ছেড়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে ধরে রেখেছে রাজশাহী কিংস। মুশফিকুর রহিম কে ছাড়লো তারা ধরে রেখেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন এবং মমিনুল হককে।

রাজশাহী কিংস এর সিইও বলেন, “আমরা আমাদের দলের সমন্বয় বিবেচনা করে এই চার খেলোয়াড়দের ধরে রেখেছি। মুস্তাফিজুর রহমান এই বছরের আমাদের এ প্লাস বিভাগের খেলোয়াড়। তাই মুশফিককে মুক্তি দিতে হচ্ছে”।

রংপুর রাইডার্স : বিপিএলের গতবারের চ্যাম্পিয়ন মাশরাফি বিন মুর্তজা রংপুর রাইডার্স এর স্কোয়াডে রয়েছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ক্রিকেটার। মাশরাফি বিন মুর্তজা, ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মালিঙ্গা, রাবী বোপারা, সামিউল বাদ্রী, ডেভিড উইলি, কুশাল পেরেরা, থিসারা পেরেরা, সহ দেশ সেরা আরেক পেসার রুবেল হোসেন এবং নাজমুল অপু।

গত মৌসুমের ফাইনাল শেষে গুঞ্জন উঠেছিল এবারের মৌসুমে ও তাদের দলের হয়ে খেলবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার ক্রিস গেইল। আর এটাই সত্যি হলো এবারের মৌসুমে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলবেন ক্রিকেট দানব ক্রিস গেইল।

এছাড়া অধিনায়ক হিসেবে এবারের মৌসুমে তাদের দলে দেখা যাবে মাশরাফি বিন মর্তুজা কে। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে রংপুর রাইডার্স রেখে নাজমুল ইসলাম অপু কে। অার চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে তারা রেখে দিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুন কে।

বর্তমান সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু এবং মোহাম্মদ মিঠুন। বিপিএলের পঞ্চম আসরের দুইজন দুর্দান্ত খেলেছিলেন। রংপুর রাইডার্স এর গত মৌসুমে ১৫ ম্যাচে ৩২৯ রান করেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। এছাড়াও নাজমুল ইসলাম অপু ১০ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১২ টি উইকেট।

খুলনা টাইটান্স : বিপিএলে এখন পর্যন্ত ফাইনাল খেলা হয়নি খুলনা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। তবে গত মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দলটি। বিশেষ করে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলে ছিল অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম শান্ত এবং কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। আর তাই এই চার ক্রিকেটারকে রিটেইনে ধরে রেখেছে খুলনা টাইটান্স।

গত মৌসুমে খুলনা টাইটান্সের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১২ টি ম্যাচে ২৮ গড়ে ৩০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৩০ স্ট্রাইক রেটে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। খুলনা টাইটান্সের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট।

১২ ম্যাচে ৩১ গড়ে ২৫০ রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরে এই ক্রিকেট দানব। পুরো টুর্নামেন্টের তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৫। বিপিএলে গত মৌসুমের সেরা আবিষ্কার ছিলেন অলরাউন্ডার আরিফুল হক। গত মৌসুমে খুলনা টাইটান্সের দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন আরিফুল। ১২ ম্যাচে ২৯ গড়ে ২৩৭ রান করেছিলেন আরিফুল হক। এছাড়াও নাজমুল হাসান শান্ত ১২ ম্যাচে করেছিলেন ২০৭ রান।

সিলেট সিক্সার্স : এছাড়াও সিলেট সিক্সার্স ধরে রেখেছেন মাত্র ৩ জন ক্রিকেটার। তারা হলেন সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটার সহেল তানভির।