বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড; তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হামলার সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার আরও ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার মোট ৫২ আসামির মধ্যে তিন জনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং এই অপরাধে সহায়তা করে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন:

আলহাজ্ব মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জি. এম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে কাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ ও মো. উজ্জল ওরফে রতন। এর মধ্যে মওলানা মো. তাজউদ্দিন পলাতক, বাকি সবাই আদালতে হাজির ছিলেন।

এই ১৯ জনকে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের (সংশোধনী-২০০২) ৩ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

এর মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৪ বছর এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রথম অভিযোগপত্র দাখিলের ১০ বছর পর রায় ঘোষণা হলো।

আওয়ামী লীগ অখুশি নয় তবে পুরোপুরি সন্তুষ্টও নয়, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো জানান, মাস্টারমাইন্ডের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত ছিল।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। সময় হলে দেশে ফিরে তারেক রহমান আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

১৪ বছর আগে আওয়ামী লীগের জনসমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলার রায় আজ বুধবার। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় চলা গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের প্রাণ যায়।

হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে, পুলিশ ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ জমা দেয়। এদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ৮ জন, পুলিশের কর্মকর্তা ৮ জন, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ৫ জন এবং পাঁচটি জঙ্গি সংগঠনের ৩১ জন।

কারাগারে থাকা ৩১ জন হল
১. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর
২. সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু
৩. ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন
৪. মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী
৫. এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম
৬. জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল
৭. মাওলানা শেখ আবদুস সালাম
৮. মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট
৯. আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম
১০. মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু উমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব
১১. মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির
১২. মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ
১৩. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে ওভি
১৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর
১৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল
১৬. মো. জাহাঙ্গীর আলম
১৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের
১৮. হোসাইন আহমেদ তামিম
১৯. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ
২০. আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক
২১. মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ
২২. মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন
২৩. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও আবু বক ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার
২৪. লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক
২৫. সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা
২৬. সাবেক আইজিপি শহুদুল হক
২৭. সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী
২৮. তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন
২৯. সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান
৩০. এএসপি আবদুর রশীদ
৩১. সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম

পলাতক ১৮ জন হল
১. তারেক রহমান
২. হারিছ চৌধুরী
৩. মাওলানা মো. তাজউদ্দীন
৪. মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন
৫. আনিসুল মোরসালিম ওরফে মোরসালিন
৬. মো. খলিল
৭. জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর
৮. মো. ইকবাল
৯. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের,
১০. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ
১১. মো. হানিফ,
১২. মুফতি আবদুল হাই,
১৩. রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু
১৪. লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার
১৫. মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন
১৬. ডিআইজি খান সাঈদ হাসান (সাবেক ডিসি পূর্ব)
১৭. পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান খান
১৮. মুফতি শফিকুর রহমান

ফাঁসি কার্যকর
১. জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
২. জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান
৩. শহিদুল আলম বিপুল