দীর্ঘবছর পরে হলেও রায়ে সন্তুষ্ট মামুন মৃধার পরিবার

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অনেকের সঙ্গে নিহত হন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা গ্রামের মোতালেব মৃধার ছেলে মামুন মৃধা। বাবা মোতালেব মৃধা তার ছেলে মামুনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু ভয়াল সেই গ্রেনেড হামলা তার সকল স্বপ্ন চুড়মার করে দেয়। আর সেই থেকে একমাত্র ছেলে হত্যার বিচারের দাবীতে কাটিয়ে দিয়েছেন ১৪টি বছর।

গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষনার খবর শোনার পর মোতালেব মৃধা বলেন, যে ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, পরিবারের হাল ধরবে কিন্তু তাকে তো হত্যা করা হলো। বিগত ১৪ বছর ধরে ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। রায়ে আমরা খুশি। ১৪ বছর পর মামুন হত্যার বিচার পেয়েছি। সরকারের কাছে দাবী যারা এখনো পালিয়ে আছেন তাদের দেশে এনে যেনো দ্রুত বিচার কার্যকর করেন।

এদিকে রায় ঘোষনার খবর শুনে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মামুনের মা মোর্শেদা বেগম। তিনি জানান, এক যুগ পার হয়ে যাওয়ার পরও যখন ছেলে হত্যার বিচার হয়নি, তখন পরিবারের সবাই হতাশায় ছিলেন। এখন রায় হয়েছে। যারা আমার বুকের ধন মামুনকে হত্যা করছে, তাদের রায় দ্রুত কার্যকর হোক। তবেই আমার ছেলের আত্না শান্তি পাবে।

নিহত মামুন মৃধার স্বজন ও দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পরে রায় হলেও আমরা সন্তুষ্ট। এতগুলো তাজা প্রাণ গেলো কিন্তু সেখানে সবার মৃত্যুদন্ড হলো না। যাদের যাবজ্জীবন হয়েছে তাদের সকলের মৃত্যুদন্ডের আশা করেছিলাম। আমরা মনে করি নীতি-নির্ধারকরা উচ্চ আদালতে যাবেন। আর আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা আমাদের রয়েছে।

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত ২৪ জনের মধ্যে নিহত হয় ঢাকার কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মামুন মৃধা। মামুনের বাবা মোতালেব মৃধা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। ২০০৩ সালে এসএসসিতে পটুয়াখালীর দশমিনার বিবি রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করে ঢাকায় ভর্তি হয় মামুন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাবাকে জানিয়েই আওয়ামী লীগের জনসভায় যায় মামুন। গ্রেনেড হামলার খবর শুনে বাবা মোতালেব বাসায় ফিরে ছেলেকে না পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ছেলের খোঁজ না মেলায় ঢাকার আত্মীয় স্বজনদের বাসায় খোঁজ নেন। রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশের খবর মেলে।এদিকে, দীর্ঘ বছরেও বিচার না পাওয়ায় স্বজনদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ছিলো। কিন্তু রায় ঘোষনার পর এখন তা কার্যকরের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।