শীতে ত্বকের সুরক্ষায় ৭টি প্রাকৃতিক উপায়

বাঙ্গালীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় হলেও শুষ্ক এ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক। তাই সারা বছর ত্বকের যত্ন নিলেও এ মৌসুমে হতে হয় আরেকটু সাবধানী।

অন্যদিকে ভেজালে ভরা বাজারের প্রসাধনী। এরচেয়ে নিজেই ত্বকের সুরক্ষায় ঘরে বসে অবলম্বন করতে পারেন কিছু প্রাকৃতিক উপায়। চলুন সেগুলো জেনে আসা যাক।

১) কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া: শীতকালের সবথেকে বড় সমস্যা হল নিরার্দ্র বাতাস। শুষ্ক এ বাতাস তখন সম্ভবপর সব জায়গা থেকে পানি শুষে নিতে চায়। সম্ভবপর সব জায়গার মধ্যে পরে আপনার মুখের ত্বকও। আর তাই দিনে অন্তত তিন বার কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন আপনার মুখমণ্ডল। অনেকেই শীতকালে গোসলের জন্য গরম পানি ব্যবহার করে। গরম পানি ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। তাই কুসুম গরম পানি দিয়ে সারাদিনে অন্তত তিনবার ধুয়ে ফেলুন আপনার ত্বক।

২) ময়েশ্চারাইজিং করা: ত্বককে সুরক্ষিত রাখার শক্তিশালী উপায় হচ্ছে একে ময়েশ্চারাইজিং করা। ময়েশ্চারিং ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। তবে এরজন্য নামীদামী ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম কেনার দরকার নেই। আমাদের ঘরেই আছে অনেকগুলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজিং ক্রীম। নারিকেল তেল, কাস্টার তেল, অলিভ অয়েল, বাটারমিল্ক, শশা এগুলো উত্তম ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত এগুলো আপনার ত্বকে মাখুন। এসব প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার শুধু আপনার ত্বকে আর্দ্রতাই ধরে রাখবে না বরং আপনার ত্বককে করবে আগের থেকে অনেক উজ্জ্বল ও প্রাণোবন্ত।

৩) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন: শীতকালে ঘাম হওয়ার কারণে পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা খুব একটা অনুভূত হয় না। তবে ঘাম ছাড়াও আরও অনেক উপায়ে শরীর থেকে পানি নিঃসরিত হয়। আর ত্বকের কোষকে সজীব রাখতে পানির বিকল্প নেই। শুধু পানি খেতে ভাল না লাগলে লেবু, কমলা বা এ ধরনের কিছুর জুস বানিয়েও খেতে পারেন।

৪) রাতে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ঘুমান: রাতের ঘুমের মধ্যে একটা বড় সময় আমরা কোন ধরনের কাজ ছাড়া থাকি। এ সময় যদি মুখে ময়েশ্চারাইজিং জাতীয় কিছু মেখে ঘুমানো যায় তবে তা সবথেকে বেশি কার্যকরী হয়। ময়েশ্চারাইজিং ক্রীম বা অয়েল রাতে মেখে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে সকালের ওঠার পর আপনার ত্বক অনেক সতেশ এবং সজীব লাগবে। সেসঙ্গে ত্বক হয়ে ওঠবে আগের থেকে আরও কোমল।

৫)নির্জীব চামড়া উঠিয়ে ফেলুন: নিয়ম করে ত্বকের মরা চামড়া বা নির্জীব কোষ সরিয়ে ফেলুন। পুরনো মৃত কোষগুলো সরিয়ে নিলে নতুন চামড়া হতে সাহায্য করবে। আর এমনি করে আপনি ফিরে পেতে পারেন আপনার উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক।

৬) প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করুন: ত্বকের যত্নে আমরা মূলত বাজারের কেমিক্যাল প্রসাধনীর উপর বেশি নির্ভরশীল। তবে তা সাময়িক সময়ে আমাদেরকে ভাল ফলাফল দিলেও ভবিষ্যৎ পরিণামের জন্য খারাপ হয়। তাই ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান এবং প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করুন। মোদ্দা কথা, প্রসাধনীর ওপর নির্ভরশীলতা কমান।

৭) সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করুন: ত্বকের যত্নে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করাটা খুবই জরুরি। তবে তার থেকেও জরুরি সঠিক উপায়ে এবং সঠিক নিয়মে ত্বক পরিষ্কার করা। ত্বক পরিষ্কার করার মানে এই না যে, ত্বক শুষ্ক করে ফেলতে হবে। অনেকেই এমনটা করে থাকেন। পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কারের পর ত্বককে খালি ফেলে রাখবেন না। এমনটা করলে আপনার ত্বক থেকে আর্দ্রতা কমে যাবে।

ত্বক পরিষ্কারের পরপরই ত্বকে ময়েশ্চার ক্রিম বা তেল মেখে নিন। এতে করে তা আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখবে। তাই আর দেরি না করে এখন থেকেই শুরু করুন শীতে ত্বকের যত্ন।