আইয়ুব বাচ্চুর বাজানো ৬৭ গিটার এখন বাক্সবন্দী

আইয়ুব বাচ্চুর বাজানো- বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের একজন কিংবদন্তী শিল্পী তিনি। একাধারে তিনি গিটারিস্ট এবং কণ্ঠশিল্পী।অার কেউ নয় তিনি হলেন আইয়ুব বাচ্চু। সবাইকে কাঁদিয়ে হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন এই ব্যান্ড তারকা। পরে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার প্রিয় স্টুডিওতে। এখানেই তিনি করেছেন সংগীত চর্চা। তার মৃত্যুতে যেন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে কর্মব্যস্ত এবি কিচেন।

হাজারো দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতের সাক্ষী শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর এবি কিচেন। একটি-দুটি নয় তার হাতের স্পর্শ পাওয়া ৬৭টি গিটার বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আছে আজ স্টুডিওতে। শিল্পীর বিদায়ে প্রিয় গিটার, ড্রাম, সাউন্ডবক্স সবই যেন ঝঙ্কারবিহীন।

এই স্টুডিওতে আর গিটারের তালে সুর তুলবেন না আইয়ুব বাচ্চু। দিন রাত একাকার হবে না সংগীতের সান্নিধ্যে। তার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ায় যেন ছন্দপতন ঘটেছে কাছের মানুষের মাঝেও।

আইয়ুব বাচ্চুর বন্ধু মহসিন খান ভারাকান্ত হৃদয় নিয়ে ,বাচ্চু অনেক কিছুই চাইতেন। চাইতেন, তার গিটারের শব্দ সারাদেশে ছড়িয়ে যাক, ছড়িয়ে যাক দেশের বাইরে। তিনি শুরু থেকেই গিটার নিয়ে ছিলেন। প্রথম পর্যায়ে তেমন কোনো সহযোগিতা ছিল না।

স্টুডিওতে থাকা অবস্থায় বেশি সময় গিটার বাজাতে পছন্দ করতেন এই সুর সম্রাট। ভেতরের চাপা কষ্ট গানের কথা, সুর ও ছন্দে প্রকাশ পেলেও তা কারো কাছেই প্রকাশ করেননি তিনি।

আইয়ুব বাচ্চুর কিচেনের ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, বুঝতাম তার মধ্যে একটা কষ্ট আছে। তবে কখনও জিজ্ঞাসা করলে এড়িয়ে যেতেন।

মহসিন খান বলেন, সরকার যদি তার এসব জিনিস সংরক্ষণ করতে চায় তবে আমরা সব সহায়তা করব।

এ সময় আইয়ুব বাচ্চুর স্বপ্ন নিয়ে তিনি আরও বলেন,স্বপ্ন ছিল সঙ্গীত শিল্পীদের জন্য একটি ইন্সটিটিউট গড়ার।কিন্তু স্বপ্ন দেখার সময় দিলেও বাস্তবায়নের সময়টা হয়তো দিতে চাননি বিধাতা। তাই তো অকালে চলে গেলেন কিংবদন্তি।

উল্লেখ্য,কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের এক বনেদী হাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম রবিন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।