১১ হাজারের ক্লাবে তুষার ইমরান

অবিরাম রান করেই চলেছেন তুষার ইমরান। জাতীয় লিগের সর্বশেষ রাউন্ডেও সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নতুন নতুন চূড়ায় উঠছেন প্রতিনিয়ত। ১১ হাজারের মাইলফলক স্পর্শ করলেন যেমন। এত এত রান করেও জাতীয় নির্বাচকদের নজরে না থাকাটা কষ্ট দেয় তুষারকে। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে তেমনটাই বললেন এই ব্যাটসম্যান

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : ১০ হাজার থেকে ১১ হাজারের ক্লাবে ঢুকে গেলেন বেশ তাড়াতাড়ি। এত দ্রুত তা হবে, ভেবেছিলেন?

তুষার ইমরান : হ্যাঁ, তাড়াতাড়িই হলো। ১০ হাজার রান হয়েছে এ বছরের শুরুতে। এরই মধ্যে ১১ হাজার হয়ে গেল। আসলে সময়টা ভালো যাচ্ছে। আমি চাই, তা যতটা সম্ভব দীর্ঘায়িত করার।

প্রশ্ন : পরের লক্ষ্য কী? ১৫ হাজার পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব?

তুষার : সেটা আসলে একটু কঠিন হয়ে যাবে। প্রতিবছরই তো আমি ১২শ, ১৪শ করে রান করব না। ১০ হাজারে ঢোকার সময় বলেছিলাম, ১১ হাজারে ঢোকা পরের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য পূরণের পর এখন ১২ হাজার টার্গেট। ধাপে ধাপে এগোই। তাতে একদিন ১৪-১৫ হাজার হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের মতো সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিও তো আপনার। ৩১টি। ক্যারিয়ার শেষের সময় নিজের নামের পাশে কতটি সেঞ্চুরি দেখতে চান, তা নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য?

তুষার : নাহ্। সেঞ্চুরি বলে-কয়ে করা যায় না। আমি প্রতিবার ক্রিজে যাই নিজের সর্বোচ্চটা দেবার জন্য। এবারের জাতীয় লিগের তিন ম্যাচে পাঁচ ইনিংস পেয়েছি— তাতে তিন সেঞ্চুরি। আমি খুশি। এভাবে ক্যারিয়ারে যতটা বাড়ানো যায় আর কি!

প্রশ্ন : এত এত রান করছেন, জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নও নিশ্চয়ই দেখেন?

তুষার : দেখতে চাই, কিন্তু আমাকে বারবার বঞ্চিত করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাচকদের যে কথাবার্তা শুনি, তাতে খুব কষ্ট লাগে। উনারা মনে করেন, দেশকে আমার কিছু দেবার নেই। আমি মনে করি, দেশকে আমার অনেক কিছু দেবার ছিল, এখনো আছে—কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তির জন্য তা পারিনি। এতে আমি যেমন বঞ্চিত হয়েছি, তেমনি দেশও তো বঞ্চিত হয়েছে, নাকি?

প্রশ্ন : প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন আজও আপনার প্রসঙ্গে আলোচনায় জাতীয় লিগের মান নিয়ে কথা বলেছেন…

তুষার : তাহলে এনসিএল, বিসিএল এগুলো বন্ধ করে দিক। আমরা যারা জাতীয় দলে নেই, তারা কোথায় রান করব, বলেন? আমাদের তো এখানেই রান করতে হবে। প্রথম ইনিংস, দ্বিতীয় ইনিংস—গত কয়েক বছরের যত পরিসংখ্যানই দেখেন। তার পরও এই অবহেলা আমার প্রাপ্য নয়।

প্রশ্ন : শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে একবার সুযোগ তো দিয়েছিলেন?

তুষার : দুই ইনিংসের সুযোগই কি যথেষ্ট? এই প্রশ্নটি আমিই আপনাকে করলাম।—কালের কন্ঠ অনলাইন