৩০ বছর বয়সের মাঝে প্রত্যেক নারীর যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা উচিৎ

ছবি: প্রতীকী।

ছোটবেলা থেকে প্রতিটা মেয়েই চায় বড় হতে। ছোটবেলার সময়টা যেন কাটতেই চায় না একদম। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে, ততোই বাস্তবতা প্রকট হতে থাকে।

ছেলেবেলার খোলস ছেড়ে বড় হওয়ার চাদর যত বেশী জড়িয়ে ধরতে শুরু করে, তত বেশী করে যেন মেয়েরা অনেক কিছু নতুন করে বুঝতে শেখে, চিনতে শেখে। মেয়েরা শেখে- কীভাবে নিজেকে সবার আগে নিজেকে প্রাধান্য দিতে হয়, কীভাবে নিজের খুশিটাকে বড় করে দেখতে হয়, কীভাবে নিজের জীবনটা নিজের মতো করে উপভোগ করতে হয়!

একজন মেয়ে কিংবা নারীর জীবনের ৩০টি বছর কাটানোর অভিজ্ঞতাগুলো হয়ে থাকে অন্যরকম। এই ৩০ টা বছর পার করার মধ্যে দিয়ে জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা হয়ে যায় একজন নারীর। এই ৩০ বছর বয়সে এসেও নারীদের মধ্যে তারুণ্য থাকে, কিন্তু তারা বোকা থাকে না।

তাদের বয়স এর সংখ্যাটা বাড়ে, কিন্তু তারা বৃদ্ধ নয় আরো বেশী পরিণত হন। জীবনের অনেক কিছুই এই ৩০ বছর বয়সের মাঝেই নারীরা জেনে ফেলেন, শিখে ফেলেন।

তার মাঝে থেকেই কিছু অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরা হলো, যা প্রতিটি নারীর ৩০ বছর বয়স হবার আগেই জানা উচিৎ।

কীভাবে একা থাকতে হবে: কেউ কখনোই বলতে পারে না, জীবনে কখন কোন কারণে কারো একা থাকার প্রয়োজন হতে পারে। যে কারণে প্রতিটা নারীর উচিৎ কীভাবে একা থাকতে হয়, একা সকল দায়িত্ব নিয়ে পথ চলতে হয়, সকল কিছু সামলাতে হয়- এই সব কিছু সম্পর্কে জানা, শিখে ফেলা।

সমাজ ব্যবস্থার কারণে নারীরা সবসময় পুরুষের ছত্রছায়ায় থেকে অভ্যাস। কিন্তু নারীদের উচিৎ নিজেদের সম্পূণরূপে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।

কাকে জীবনে ধরে রাখতে হবে এবং কাকে চলে যেতে দিতে হবে: হ্যাঁ, এই ব্যাপারটা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জ্ঞান রাখা উচিৎ। কারণ জীবনে সবার গুরুত্ব থাকবে না। কখন কাকে জীবন থেকে চলে যেতে দিতে হবে এবং কাকে জীবনের সাথে জড়িয়ে রাখতে হবে সেই সম্পর্কে খুব ভালোভাবে ধারণা তৈরি করা শিখতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞাসা করে বুঝতে হবে- “যাকে কষ্ট করে জীবনের সাথে জড়িয়ে রাখছেন সে আপনার জীবনের জন্য আপনার ভবিষ্যৎ এর জন্য কতোটা গুরুত্ব বহন করে?”

“না” বলা শিখতে হবে: কখনো কখনো “না” বলাটা সত্যিকার অর্থেই খুব বেশী কঠিন একটি কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু, এই বিষয়ে নিজের ভালোর জন্যেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে, শিখতে হবে কীভাবে নিজের অপছন্দ এবং অমতের স্বপক্ষে না বলতে হয় কাউকে।

মনের মধ্যে ক্ষোভ, রাগ, অভিমান, হতাশা ধরে না রাখা: সকলের মাঝেই এই ব্যাপারটি কমবেশি থাকলেও, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাঝে এর প্রবণতা বেশি থাকে। কোন কিছুর প্রতি অথবা কারোর প্রতি কোন রাগ,বিদ্বেষ, অভিমান এবং কোন কিছুর প্রতি, কোন ফলাফলের উপরে হতাশা চলে আসলে, নারীরা সেটা অনেক লম্বা সময় নিয়ে মনের মধ্যে পুষে রাখেন। এই ব্যাপারটা একেবারেই ভুলে যেতে হবে, যেটা হয়নি, সেটাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া শিখতে হবে।

কাকে বিশ্বাস করতে হবে এবং কাকে নয়: বয়সের সাথে সাথে একজন যত বেশী পরিণত হতে থাকে, তার অভিজ্ঞতার ঝুলি যত বেশী ভারী হতে থাকে তত বেশী সে জানতে এবং বুঝতে শেখে জীবনে কাকে বিশ্বাস করতে হবে এবং কাকে নয়। মানুষকে বুঝতে পারা, তাদের চিনতে শেখা একটি শিল্প। সময়ের সাথে সাথে যা আপনা থেকেই রপ্ত করে ফেলা সম্ভব হয়।

যেখানে নিজের কোন দোষ নেই, সেখানে দুঃখিত হবারও কিছু নেই: নারীদের মধ্যে খুব কমন একটা প্রবণতা দেখা যায়- নিজের কোন দোষ না থাকা স্বত্বেও অকারণে দুঃখিত হওয়া, স্যরি বলা। এই কাজটা নারীরা করেন অভ্যাসগত কারণে। কারণ, তাদেরকে সবসময় শেখানো হয় খুব নম্র এবং ভদ্র হবার জন্য। যেখানে তাদের কোন দোষ নেই সেখানেই স্যরি বলার জন্য! তাই। যেখানে নিজের কোন দোষ নেই, সেখানে অকারণে দুঃখিত হবারও কিছু নেই।

শৈশবের দুঃসহ স্মৃতিগুলো ভুলে যাওয়া: অধিকাংশ নারীদের শৈশব কাটে ভয়াবহ কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে। যার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে অনেকেই তাদের পুরো জীবনটা কাটিয়ে দেন। আর যে কারণে তাদের বর্তমান সময়ের জীবনটাও হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। তাই যে সকল নারী তাদের শৈশবে বাজে দূর্ঘটনার সময় পার করে এসেছেন, তাদের শিখতে হবে কীভাবে সেই সময়গুলো ভুলে শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়, বর্তমান সময়টাকে নিয়ে আনন্দ সময় পার করা যায়।

বুঝতে হবে বয়স কমছে না, বাড়ছে: বয়স্ক হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকের মাঝে একটা অজানা ভয় কাজ করে। কিন্তু তাতে করে তো বয়স কমবে না, বয়স তার আপন গতিতেই বাড়তে থাকবে। তাই বয়স বেড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা না করে বরং তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা শিখতে হবে।

প্রাক্তন প্রেমিক জীবনের একটি অভিজ্ঞতা: প্রেম-ভালোবাসার জীবনে প্রাক্তন প্রেমিক যেন একটি বিভীষিকার মতো অনেক নারীর কাছেই। সকলের ক্ষেত্রেই তাদের প্রাক্তন খুব খারাপ মানুষ হন তা কিন্তু নয়। তবে যে মানুষটা এক সময় জীবনের সমটুকু জুড়ে ছিল এবং বর্তমানে নেই- তার এই অনুপস্থিতি পক্ষান্তরে একজনকে মানসিকভাবে শক্ত হওয়া শিখিয়ে দেয়।

ভবিষ্যৎ সময়ে কী করবেন তার পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে: জীবনের ৩০ টি বছর খুব কিন্তু কম সময় নয়! এতগুলো বছরে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেক কিছুই হয়ত করা হয়েছে, শেখা হয়েছে। তবে বয়স ৩০ হবার আগেই পাকাপাকিভাবে সিদ্ধান্ত তৈরি করে ফেলা উচিৎ সকল নারীর, সামনের দিনগুলোতে কী করবেন, জীবনকে কীভাবে পরিচালিত করবেন! বিশেষ করে ৩০ বছর হবার আগেই জীবনের ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করে ফেলার পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে।

সূত্র: Cure Joy