‘প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি; যখন বুঝতে পারলাম এরপর …’

ফরাসি এক ছাত্রী যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এসে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি যে ছাত্রীর বাসায় থাকার জন্য উঠেছিলেন, তার বাবা-ই তাকে যৌন হেনস্থা করেছেন বলে জানান।

ওই ছাত্রী ফ্রান্স থেকে স্টুডেন্ট এক্সেচেঞ্জ প্রোগ্রামে এসেছিল দিল্লিতে। জঘন্য এ ঘটনা জানার পর ছাত্রীটির বাবা-মা স্তম্ভিত। কেননা, অনেক ভরসা করে তারাই ভারতে মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন অভিযুক্ত ওই পরিবারটির কাছে।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর অভিযোগ, গত ১৮ অক্টোবর এ ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত ৫৫ বছরের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহেই থানায় শিশু যৌন নির্যাতন আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভারত ও ফ্রান্সের ছাত্রী বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গত ১৩ অক্টোবর ভারতে আসেন ওই ছাত্রী। এরপর থাকার জন্য দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় এক ছাত্রীর বাড়িতে উঠেছিলেন তিনি।

ফ্রান্সের ওই ছাত্রীর অভিযোগ, ‘সে দিন জয়পুরে যাওয়ার জন্য আমি তৈরি হচ্ছিলাম। আমার ঘরেই ছিলাম। ওই ছাত্রীর বাবা কিছু পরামর্শ দেয়ার জন্য আমার ঘরে আসেন। তখনও আমি জিনিসপত্র গোছগাছ করছিলাম।… তিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আংকেল খুবই কাছে চলে আসেন আমার। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, চিন্তা কর না। সব ঠিক হবে।… প্রথমে আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। এরপর টের পাই তিনি আমার বুক স্পর্শের চেষ্টা করছেন। জড়িয়ে ধরছেন আর বলছেন, চিন্তার কর না।… বিষয়টি আমার কাছে খুবই অস্বস্তিকর এবং কষ্টদায়ক ছিল।’

ছাত্রীর অভিযোগ, ‘এখানেই শেষ না। তিনি আমার হাত জোর করে উনার দু’পায়ের ফাঁকে ঢুকিয়ে দেন।’ জয়পুর যাওয়ার পথে ওই ছাত্রী পুরো বিষয়টি তার বন্ধুকে জানান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এরপরই পুরো ঘটনাটি জানানো হয় যে স্কুলের তরফ থেকে তাদের আনা হয়েছিল, সেই স্কুলের শিক্ষককে।

এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীর পরিবার এবং ফরাসি দূতাবাসের যোগাযোগ করা হয়। পরে ছাত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দিল্লি পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।