১০ গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় অবস্থিত ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) একটি পোশাক কারখানার এক শ্রমিক গাড়িচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্র মহাসড়কে এবং ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে ১৫/২০টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে।

এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নতুন ডিইপিজেডের ভেতরে এই গাড়িচাপা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের নাম মিশন শেখ (২৬)। তিনি নতুন (সম্প্রসারিত) ডিইপিজেড এর শান্তা গ্রুপের শান্তা ডেনিম কারখানার শ্রমিক এবং তার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কারখানা ছুটি শেষে সাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন শান্তা ডেনিম কারখানার অডিটর পদে কর্মরত মিশন। ডিইপিজেডের প্রধান গেট সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে মালবাহী একটি কাভার্ডভ্যান মিশনকে চাপা দেয়। এতে মিশন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ডিইপিজেডের টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যান ও শ্রমিকবাহী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শ্রমিকরা জানান, শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার শ্রমিক ডিইপিজেডের প্রধান গেট বন্ধ করে দিয়ে লোডকৃত গাড়ি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও শ্রমিক পরিবহন কাজে নিয়োজিত বাসে আগুন দেয়। এতে অন্তত ১০টি গাড়ি পুড়তে দেখা যায়। তবে জ্বলন্ত গাড়িগুলোর ছবি তুলতে গেলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে লাঠিপেটা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। ওদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের গাড়ি চলাচল সন্ধ্যা ৭টা থেকে বন্ধ করে দেয়। এ সময় সড়কটিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১৫/২০টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের বাধায় তারা প্রধান গেট দিয়ে ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। যারা মোবাইল বা ক্যামেরায় গাড়ি পোড়ানো দৃশ্য ধারণ করতে গিয়েছে তাদেরকেও নাজেহাল হতে হয়েছে। এমনকি অনেকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে শ্রমিকরা। দৈনিক আজকালের খবর এর স্টাফ রিপোর্টার মনিরুজ্জামান জ্বলন্ত গাড়ির ছবি তুলতে গেলে তার মোবাইল ফোনটি শ্রমিকরা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে পিটিয়ে আহত করে।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দীপু শ্রমিক নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ডিইপিজেডের অভ্যন্তরে ও বাইরে নবীনগর-চন্দ্রা সমাসড়কে হামলা চালিয়ে ও আগুন দিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং পুড়িয়ে দিয়েছে। শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ডিইপিজেডের গেটের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে বাধার মুখে পড়তে হয়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অনুরোধে শ্রমিকরা শান্ত হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।