ভক্তকে তিরস্কার করায় কোহলিকে বোর্ডের সতর্কতা

বিরাট কোহলিকে ওভার-রেটেড ব্যাটসম্যান বলেছিলেন ভারতের এক ক্রিকেট ভক্ত। এর ফলাফলটা ঐ ভক্তের জন্য সুখকর হয়নি। কোহলি চটেছিলেন স্বাধীনভাবে মন্তব্য করে বসা ভক্তের উপর। তবে মেজাজ দেখানোটা মোটেও ঠিক হয়নি কোহলিরও। সমর্থকদের ব্যাঙ্গের শিকার তো হয়েছেনই, তিনি পড়েছেন বোর্ডের রোষানলেও।

গত সোমবার নিজের জন্মদিন উপলক্ষ্যে নতুন একটি অ্যাপের যাত্রা শুরু হয় কোহলির হাত ধরে। ইন্সটাগ্রামে সেই অ্যাপের এক ভিডিওতে এক ভারতীয় সমর্থক কোহলিকে ‘ওভার-রেটেড’ ব্যাটসম্যান বলে আখ্যায়িত করেন এবং জানান, কোহলির চেয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের খেলাই বেশি ভালো লাগে তার। সরাসরি নিজের চোখের সামনে নিন্দা দেখতে পেয়ে সম্ভবত ভালো লাগেনি কোহলির। তার পারফরম্যান্স তো আর নিন্দুক পুষে রাখার মত নয়! তাই উগরে দিয়েছিলেন ক্ষোভ।

কোহলি ঐ সমর্থককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না আপনার ভারতে থাকা উচিত। আপনার উচিত অন্য কোথাও গিয়ে থাকা। কেন আপনি আমাদের দেশে বাস করছেন? আর অন্য দেশকে ভালোবাসছেন? আমাকে পছন্দ না করলেও আমার কিছু আসে যায় না। তবে এদেশে বসবাস করে অন্য দেশের কিছু পছন্দ করা উচিত নয় বলেই আমার মনে হয়। আপনার নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করুন।’

তবে কোহলির এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা দুয়েরই ঝড় উঠে। কোহলির দেশ ছেড়ে যাওয়ার ‘নির্দেশ’ শুনে মেজাজ চটে যায় অনেক সমর্থকেরই। এমনকি সাবেক অনেক ক্রিকেটারও তার এমন আচরণে নাখোশ হন। এবার বিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাও বোর্ডের তরফ থেকে কোহলির এমন কাণ্ডের সমালোচনা করেছেন, একইসাথে তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কও করেছেন।

কোহলির এই ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিসিসিআইয়ের ট্রেজারার অনিরুদ্ধ চৌধুরী জানিয়েছেন, কেন এবং কীভাবে সব ক্রিকেটারকেই ভালোবাসা যায়। তিনি বলেন, বিসিসিআইয়ের আমরা আমাদের ক্রিকেট সমর্থকদের মূল্য বুঝি এবং তাদের মতামতকে সম্মান করি। আমি সুনীল গাভাস্কারের ব্যাটিং দেখতে ভালোবাসতামকিন্তু সে সঙ্গে গর্ডন গ্রিনিজডেসমন্ড হেইন্স এবং ভিভ রিচার্ডসের খেলাও ভালোবাসতাম। আমি শচীন টেন্ডুলকারবীরেন্দর শেবাগসৌরভ গাঙ্গুলীভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাটিংও পছন্দ করতাম আবার মার্ক ওয়াহব্রায়ান লারাসহ এমন আরও অনেকের খেলাই ভালোবেসেছি।’

তিনি বলেন, আমার কাছে শেন ওয়ার্ন ছিল চোখের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর স্পিনার কিন্তু অনিল কুম্বলে যখন বল করত সে উত্তেজনার তো কোনো তুলনা হয় না। ফর্মে থাকা কপিল দেব ছিল চোখের জন্য তৃপ্তিদায়ককিন্তু রিচার্ড হ্যাডলিইয়ান বোথাম এবং ইমরান খানদের বেলাতেও তাই।’

কোহলি ঐ ভক্তকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলা প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধ বলেন, ‘ভৌগোলিক কিংবা রাজনৈতিক সীমা নিয়ে চিন্তা না করে ক্রিকেটের সেরাদের শ্রদ্ধা করাটাই তো এমন ভালোবাসার জন্ম দেয়।’

কোহলি আর ভারতীয় বোর্ডের সাথেই বিভিন্নভাবে জড়িয়ে আছে ভিনদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান। সেটি উল্লেখ করে বিসিসিআইয়ের এই শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘বিরাটের বোঝা উচিত, এই সমর্থকেরা যদি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যায়, তবে পিউমাও আর তার সঙ্গে ১০০ কোটি রুপির চুক্তি করতে আসবে না। বিসিসিআইয়ের আয় পড়ে যাবে, সে সঙ্গে কমবে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি। সে (কোহলি) যদি চুক্তিটা আবার পড়ে দেখে, তাহলে বুঝবে সে সম্ভবত এ বিবৃতি দিয়ে চুক্তির নিয়ম ভঙ্গ করেছে। এর আগে সে ইংল্যান্ডে গিয়ে পিউমার বিজ্ঞাপন করে বিসিসিআইয়ের নাইকির সঙ্গে চুক্তিটারও অমর্যাদা করেছে।’

কোহলির চটে যাওয়া সহজে হজম করে থাকেননি সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারাও উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। এক সমর্থক লিখেছেন, ‘কোহলি বলছেন যে ভারতীয়রা নিজের দেশের ক্রিকেটারদের পছন্দ করেন না, তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে!’ আরেক সমর্থক কোহলির উপর ক্ষোভ রেখে দেশ ছাড়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- ‘আমি নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিয়েছি। আমি আমেরিকায় চলে যাব, কারণ আমি ক্রিকেটকেই ঘৃণা করি।’ আরেক সমর্থকের মন্তব্য, ‘কোনো নাগরিককে দেশে ছেড়ে চলে যেতে বলার অধিকার তোমার নেই, বিরাট।’