ছোটবেলার অভ্যাসের কারণে সব শটে সমান পারদর্শী নন সাকিব!

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আইকন সাকিব আল হাসান। স্পিন ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে কুপোকাত করে ক্ষান্ত হন না, ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদেরও করেন কচুকাটা। তারপরেও কিছু জায়গায় নাকি দুর্বলতা আছে সাকিবের, সবদিকে সমান পারদর্শিতায় শট খেলতে পারেন না। কিন্তু কেন? সেটা জানালেন সাকিব নিজেই।

বিসিবি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘আমাদের নিয়ম করে দিতো ওই বাসায় গেলে কিংবা ওই পুকুরে বলটা পড়লে আউট। তো ওই শটটা আমরা তখন খেলতাম না। না খেলতে খেলতে একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যেত। এখন যেটা রিয়ালাইজ করি, হয়তো এই কারণেই ওই শটটা এখনো ওইভাবে ভালো খেলি না।’

বাড়ির আঙিনায় ছোট জায়গাটার দিকে ইঙ্গিত করে সাকিব বলেন, এইটুকু জায়গাতে খেলা হতো, এইযে বিদ্যুতের খুঁটি, এটাকে স্টাম্প বানিয়ে কত খেলেছি। দুই পাশের রিকশা-টিকশা বন্ধ করে দিয়ে এই রাস্তার উপরই খেলা হত। মুরগি বেঁধে খেলা হত এখানে, যারা জিতবে রাতে মুরগি পাবে (হাসি)… তরমুজ, মুরগি, কলা… বিস্কুট।’

কিশোর বয়সে সাকিব যে ভালো ফুটবলার ছিলেন সেটা অনেকেই জানেন। আসলে ওই বয়সে সাকিবের জন্য ব্যাপারটি এমন ছিল যে, খেলতে হবে, সেটি যে খেলায় হোক।

‘ফুটবলার বা ক্রিকেটার হবো এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। এটা বছর বছর পরিবর্তন হত। সবগুলোই ছিল পড়াশুনা রিলেটেড। যেহেতু মিডল ক্লাস ফ্যামিলি, বাবা সরকারি চাকরি করতো, আমরা দেখেও বড় হয়নি যে, আমাদের এলাকা থেকে কেউ ওরকম জায়গায় যাচ্ছে। দু’য়েকজন ফুটবলে ন্যাশনাল টিমে খেলেছে। ক্রিকেটারই হচ্ছি বা হতেই হবে এমন কোন পরিকল্পনা ছিল না। আমার মনে হয়, ওরকম প্লান থাকলে আমি ক্রিকেটারই হতে পারতাম না। কারণ, আমার কাছে মনে হয় এগুলো একটা মানসিক চাপ।’ বলছিলেন সাকিব।

নিজের ভোজন রসিকতার কথা অকপটে স্বীকার করে সাকিব বলেন, ‘খাবর প্রচণ্ড খেতে পছন্দ করি, একমাত্র পটল বাদে, পটলের বিচিটা আমার পছন্দ না (হাসি)। ওই জিনিসটা বাদে আমি আর যেকোনো খাবার খেতে পছন্দ করি।’

কিছুদিন আগে সাকিবের লুঙ্গি পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কমলা রঙয়ের লুঙ্গির সঙ্গে তিনি পরেছিলেন কোর্ট এবং টাই।

লুঙ্গি পরা সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘যদিও এটাই আমার খুব সম্ভবত প্রথমবার লুঙ্গি পরা, লুঙ্গি পরা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তারপরেও আমি মনে করি এটা হচ্ছে অনেকটা পাঞ্জাবির মতো, খুবই আরামদায়ক। যদিও আমার অভিজ্ঞতা নাই তাই বলা মুশকিল। এটা বাংলাদেশের ট্রেডিশন, প্রথমবার পরে আমি খুব খুশি।’

রাগ করলে সাকিব কি করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘(আগে) জানি না, অনেক চিল্লাচিল্লি করতাম, রাগারাগি করতাম, সামনে কিছু পেলে ভেঙ্গে ফেলতাম, এখন এই জিনিসগুলো হয়না। এখন আমি অন্তত টাইম নেই বোঝার জন্য। রাগারাগি হলেও ওটা কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সেটার বেটার ওয়ে আমি জানি।’—সময় নিউজ