যেকোনো বিপদের মুহূর্তে ছোট্ট এই দোয়াটি পড়ুন

আমরা চলার পথে অনেক সময় বিভিন্ন বিপদে পড়ে থাকি। বিপদে পড়লে আমাদের মহান আল্লাহ তা’য়ালা রক্ষা করেন। তবে বিপদে পড়লে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) আমাদের ছোট্ট এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন।

আরবি দোআ «إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرَاً مِنْهَا». বাংলা উচ্চারণইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লা-হুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লী খাইরাম মিনহা।

বাংলা অর্থ: আমরা তো আল্লাহ্‌রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাকে আমার বিপদে সওয়াব দিন এবং আমার জন্য তার চেয়েও উত্তম কিছু স্থলাভিষিক্ত করে দিন।” [ মুসলিম ২/৬৩২, নং ৯১৮।]

আরো পড়ুন: নবীর (সা.) শাফায়াত ছাড়া কি জান্নাতে যাওয়া যাবে না? জেনে নিন ইসলাম কী বলে?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানটির জুমাবারের বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৫৬৪তম পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ সময় রোজ হাশরের মাঠে নবীর (সা.) শাফায়াত ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে কি না, সে সম্পর্কে টেলিফোনে জানতে চান একজন দর্শক।

জবাবে ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, জি, নবী (সা.) সুনির্দিষ্ট একটি গ্রুপের জন্য শাফায়াত করবেন। এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। তারা নবীর (সা.) শাফায়াতের মাধ্যমেই জান্নাত লাভ করতে পারবে। এটিও হাদিসের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে নবীর (সা.) শাফায়াত ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে না—এ বক্তব্যটি এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুদ্ধ নয়। আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা কেয়ামতের দিন বিচার ফয়সালার পরে যাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা করবেন, তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

কিন্তু যাদের শাফায়াতের প্রয়োজন হবে, তারা নবীর (সা.) শাফায়াতের জন্য অপেক্ষা করবে। যারা কবিরা গুনাহ করেছে, তাদের জন্য নবী (সা.) শাফায়াত করবেন।

এটি দীর্ঘ একটি আলোচনার বিষয়, শাফায়াতের অনেক ধাপ রয়েছে। তার মধ্যে শাফায়াতে কোবরা সবার জন্য। আর এটি নবী (সা.) করবেন শুধু বিচার ফয়সালার জন্য।

তাই শাফায়াতের বিষয়টি বিস্তারিত জানতে হলে আপনি কোনো বই থেকে জেনে নেবেন। কিন্তু যেভাবে বলেছেন, সেভাবে এই বক্তব্য শুদ্ধ নয়।

তবে হাশরের ময়দানে সবাইকে নবীর (সা.) এই শাফায়াতের মুখোমুখি হতে হবে, এর থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। যেহেতু আল্লাহতায়ালার কাছে নবী (সা.) সুপারিশ করবেন, যাতে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা মেহেরবানি করে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করে দেন।

তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেটি অনুমোদন দেবেন। আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘হে মুহাম্মদ (সা.)! আপনি চান, এখন আপনাকে দেওয়া হবে। আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে।’