৭০০ বছরেও খোলেনি নবীজির রওজার মূল দরজা

সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মদিনার মসজিদে নববীতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহম্মদ (সা.)। নবীজি যে ঘরটিতে স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) নিয়ে বসবাস করতেন সে ঘরটিতে মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে একই স্থানে ইসলামের প্রধান খলিফা ও নবীজির শ্বশুর আবু বকর (রা.) ও আরেক খলিফা ওমরকে (রা.) দাফন করা হয়। মসজিদে নববীর এক ও দুই নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে রওজায় সালাম জানাতে মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঢল নামে।

কিন্তু কেউ জানেন না নবীজি ও দুই খলিফাকে কীভাবে দাফন করা হয়েছে। সম্প্রতি মদিনা সফরকালে স্থানীয় মদিনা জাদুঘর পরিদর্শনকালে জাদুঘরটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নকশা দেখিয়ে বলেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রচলিত কবরের চেয়ে সৌদি আরবের কবর একটু ভিন্ন। নকশায় দেখা যায় পাশাপাশি নয়, নবীজি (সা.), আবু বকর (রা.) ও ওমরকে (রা.) আড়াআড়ি দাফন করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন রওজা মোবারকে যে স্থানটি থেকে সালাম জানানো হয় তা থেকে মূল রওজা খানিকটা দূরে। সুদীর্ঘ ৭০০ বছরেও নবীজির রওজার মূল দরজা খোলা হয়নি। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আবেগ এতটাই বেশি যে, নবীজির রওজার দরজা খোলা থাকলে ধুলোবালিও নিয়ে যেত।

উদাহরণস্বরূপ তিনি মক্কার হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুমো খাওয়ার সময় আবেগপ্রবণ মুসল্লিদের হুড়োহুড়ির কথা উল্লেখ করেন। তাই নবীজির রওজা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা খানিকটা দূর থেকে রওজা জিয়ারতের সুযোগ দেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বব্যাপী নবীজির রওজা মোবারক নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে। বিভিন্ন দেশে নবীজি ও খলিফাদের ভুয়া রওজার ছবি দেখিয়ে অবৈধ অর্থ রোজগারের অপচেষ্টা চলছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও কাছে মাথা নত করা উচিত নয় বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

তাছাড়াও রওজা শরীফ সর্ম্পকে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হয়রত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার মসজিদে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে আর কোনো নামাজ কাজা করেনি, সে নিফাক (মোনাফিকি) আর দোজখের আজাব থেকে নাজাত পাবে।হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তার রওজা মোবারক জিয়ারতে করলো, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জীবদ্দশায় দশন করলো।

মসজিদে নববিতে প্রবেশের অনেকগুলো দরজা রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম পাশে রাসূলের রওজা জিয়ারতের জন্য যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, ওই দরজাকে ‘বাবুস সালাম’ বলা হয়। বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করে রাসূলের রওজায় সালাম শেষে ‘বাবুল বাকি’ দিয়ে বের হতে হয়।

মদিনায় জিয়ারতে হাজীদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ মদিনায় এসে দুনিয়ায় জীবিত থাকতে জান্নাতে ভ্রমণের সুযোগ মেলে। কারণ নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূলে করিম (সা.)-এর মিম্বর পযন্ত স্বল্প পরিসরের স্থানটুকুকে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়। এটি দুনিয়াতে একমাত্র জান্নাতের অংশ। এই স্থানে স্বতন্ত্র রঙয়ের কার্পেট বিছানো থাকে।

এই স্থানটুকু সম্পর্কে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার রওজা ও মিম্বরের মধ্যবতী স্থানে বেহেশতের একটি বাগিচা বিদ্যমান। এখানে প্রবেশকরা মানে জান্নাতে প্রবেশ করা।বস্তুত দুনিয়ার সব কবরের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশি জিয়ারতের উপযুক্ত স্থান হলো- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক। তাই এর উদ্দেশে সফর করা উত্তম।