পৃথিবীর বুকে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন

নতুন করে জেগে উঠেছে পেরুর সাবাঙ্কায়া আগ্নেয়গিরি!যদিও প্রায়ই জেগে ওঠে এই আগ্নেয়গিরি।আর তার জ্বালামুখ দিয়ে অবিরাম গলগলিয়ে বের হচ্ছে উত্তপ্ত ছাই ও ধোঁয়া। যত সময় গড়াচ্ছে তত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এই আগুন।
ডিসেম্বরের শুরুতেও হঠাৎই বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে এর। অনর্গল ভূগর্ভস্থ লাভা ও ধোঁয়া বের করতে থাকে এটি। তবে এবার এটি জেগে ওঠার পর বেশ সতর্ক রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কড়া নজরদারিতে রয়েছে সাবাঙ্কায়া আগ্নেয়গিরি।

অত্যাধুনিক ড্রোন দিয়ে ওপর থেকে ভিডিও করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই আগ্নেয়গিরি নিয়ে বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন ভূতত্ত্বাবিদরা।কোন কোন গ্যাস বা কোন কণার সমাহারে এই আগ্নেয়গিরি সে কথাও জানিয়ে দেবে এই ড্রোনের সেন্সর।

পেরুর একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটিকে যে ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তার সেন্সরে ধরা পড়বে অনেক কিছুই। সাবাঙ্কায়ার পেটে কী কী রয়েছে, যা উদগীরণ হতে পারে সে বিষয়ে তথ্য দেবে এই ড্রোন।

আরো পড়ুন: ২০১৯ সালে পৃথিবীতে মহা সুনামি হবে!

বুলগেরিয়ার বাসিন্দা বাবা ভ্যাঙ্গা। যার আসল নাম ভ্যাঙ্গেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা। থট রিডিং, অলৌকিক উপায়ে রোগ নিরাময় ইত্যাদি ক্রিয়ার কারণে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন। ১৯১১ সালে জন্ম ভ্যাঙ্গেলিয়ার। বাল্যকালে সাধারণ ও স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। কিন্তু এক ঘূর্ণিঝড় এসে সব ওলট-পালট করে দেয়।

ভ্যাঙ্গেলিয়া জানিয়েছিলেন, ঝড় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তাকে পাওয়া যায়। চেতনা ফিরতে তিনি টের পান, তার চোখে কোনো সমস্যা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারান।

১৯২৫ সালে ভ্যাঙ্গা দৃষ্টিহীনদের জন্য এক বিশেষ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি পিয়ানো বাজানো, রান্না করা, উল বোনা ইত্যাদিও শেখেন। এই সময় থেকেই তার মধ্যে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার উদয় দেখা দেয়। তিনি ভবিষ্যতে ঘটবে এমন ঘটনার কথা অবলীলায় বলতে শুরু করেন। অচিরেই তাকে ‘বলকানের নস্ত্রাদামুস’ বলে অভিহিত করা হয়। ১৯৯৬ সালে মারা যান ভ্যাঙ্গা। তখন তার বয়স ৮৫ বছর।

ভ্যাঙ্গা যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো করেছিলেন তার মধ্যে অনেক ঘটনাই মিলে গেছে। ২০১৯ সাল নিয়ে ভ্যাঙ্গা বাবা কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

সেগুলো ডেইলি বাংলাদেশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো: ১. ২০১৯ সালে পৃথিবীতে এক মহা সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। যে সুনামি ২০০৪ সালের সুনামির মতোই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে সেটি।

২. আগামী বছর রাশিয়ায় এক বিরাট উল্কাপতন ঘটতে পারে। ৩. ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুবই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এই অসুখ মস্তিষ্কের এক রহস্যময় রোগ।

৪. ২০১৯ সালটি রাশিয়ার উত্থানের বছর বলে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন। বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই বছর উঠে আসতে পারে। এছাড়াও ২০১৮ সাল থেকে পৃথিবীর নানা বিষয় নিয়ে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

সর্বশেষ ৩৭৯৭ সালে পৃথিবী ধ্বংস হবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো হচ্ছে:

২০১৮ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংকটের মধ্যে পড়বে। ২০২৮ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট দেখা দেবে।

ভ্যাঙ্গার মতে, ২০১৬ সাল থেকে ইউরোপের অবলোপ ঘটবে। (ব্রেক্সিটের কথা মাথায় রাখলে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না।)

ইসলামি শক্তির দ্বারা ইউরোপ বিপন্ন হয়ে পড়বে। সিরিয়ায় ইসলামি শক্তিগুলো বিপুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

২০৪৩ নাগাদ রোম একটি মুসলিম নগরীতে পরিণতি পাবে। সেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে খিলাফতের শাসন। ২১৩০ সাল নাগাদ মানুষ পানির তলায় বসবাসের বন্দোবস্ত করে ফেলবে।

২০৪৫ সাল নাগাদ বিশাল হিমশৈলগুলো গলতে শুরু করবে। পৃথিবীর অস্তিত্ব সংকট দেখা দেবে তখন। ২০৭৬ সাল নাগাদ ইউরোপে কমিউনিজম আবার মাথাচাড়া দেবে এবং তার প্রভাব পড়বে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও।

৩৭৯৭ সাল নাগাদ পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য। কিন্তু তত দিনে মানুষ এক নক্ষত্রলোকের সন্ধান পাবে। সেই স্থানেই গড়ে উঠবে পৃথিবীর উপনিবেশ। সূত্র: ডেইলি মেইল।