বছরের দীর্ঘতম রাত আজ, কাল ক্ষুদ্রতম দিন

বছরের দীর্ঘতম রাতটি হতে যাচ্ছে আজ শুক্রবার। এ রাতেই চাঁদের আলো সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের দীর্ঘতম রাতের অভিজ্ঞতা নেবে সবাই।

অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার দিনটি হবে হ্রস্বতম। এটি অবশ্য উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে ঘটবে। তবে বিপরীত অবস্থা থাকবে দক্ষিণ গোলার্ধে। সেখানে একই সময় হবে দীর্ঘতম দিন ও হ্রস্বতম রাত।

২১ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করায় এবং উত্তর মেরু সূর্য থেকে কিছুটা দূরে হেলে থাকায় উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত্রি ও ক্ষুদ্রতম দিন হয়ে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা দেখা যায়।

রাতটা দীর্ঘতম হলেও সঙ্গে থাকবে চাঁদ। সারারাতই চাঁদের আলো পৃথিবীকে সঙ্গ দেবে। দীর্ঘ রাত হওয়ায় কুয়াশা গাছের পাতায় ফোঁটা ফোঁটা পানি জমিয়ে ফেলে। গ্রামবাংলায় প্যাঁচার নানা ধরনের ডাকের সঙ্গে পাতাঝরা পানির টুপ টুপ শব্দ মোহময় করে তুলে।

দীর্ঘতম রাত অথবা হ্রস্বতম দিনকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে-২১ জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে আমরা পাই দীর্ঘতম দিন আর হ্রস্বতম রজনী।

সূর্য এ সময় কর্কটক্রান্তি বৃত্তে অবস্থান করে। ক্রান্তি বৃত্তে সূর্যের এই প্রান্তিক অবস্থান বিন্দুকে বলা হয় উত্তর অয়নায়ন। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অবস্থা।

এর পর থেকে দিন ছোট হতে থাকে আর রাত বড় হতে থাকে। অবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য আবার অবস্থান নেয় বিষুব বৃত্তের বিন্দুতে, যেখানে ক্রান্তি বৃত্ত ও বিষুব বৃত্ত পরস্পরকে ছেদ করেছে। একে বলা হয় জলবিষুব বিন্দু।

এই দিন পুনরায় পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান হয়ে থাকে। আবার এর পর থেকেই উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ রাত বড় হতে হতে সূর্য পৌঁছে যায় ক্রান্তি বৃত্তের দক্ষিণ অয়নায়ন বিন্দুতে।

এভাবে ২১ ডিসেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে হয় দীর্ঘতম রজনী আর ক্ষুদ্রতম দিবস। এ সময় সূর্য মকর বৃত্তে অবস্থান করে থাকে। সূত্র: যুগান্তর।

আরো পড়ুন: মঙ্গলে বইছে বাতাস, শব্দ রেকর্ড করল নাসা

বহু বছর ধরে মঙ্গল গ্রহের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। এই গ্রহ বসবাসের যোগ্য কিনা তা নিয়েও চলছে গবেষণা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তাই মঙ্গলের রহস্য আরো ভালোভাবে উন্মোচনের জন্য সেখানে পাঠানো হয় নাসার যান ‘ইনসাইট’।

গত ৫ মে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে ইনসাইটকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপর এটাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ৩০ কোটি মাইল বা ৪৫ কোটি ৮০ লাখ কিলোমিটার পথ। নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৩ মিনিটে যানটি সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করে। অবতরণের ছয় মিনিটের মাথায় যানটি থেকে মঙ্গলের ছবি পাঠানো শুরু হয়।

শুধু তাই নয়, সেখানে বাতাসের শব্দও শুনতে পায়। গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলের পিঠে ওই বাতাসের শব্দ শুনেছে পায় ইনসাইট। তারপর তা রেকর্ড করে নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরিতে রিলে করে পাঠায় ইনসাইট ল্যান্ডার। বাতাসের শব্দ পরীক্ষা করে নাসা জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে বইতে থাকা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মাইল।

তার মানে, সেকেন্ডে ৫ থেকে ৭ মিটার। তবে এই গতিবেগ পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় সমতল এলাকায় পৃথিবীতে বাতাস বইতে থাকে গড়ে সেকেন্ডে ২০ মিটার গতিবেগে। সামান্য কম-বেশিও হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, ইনসাইটের দুটি যন্ত্রে বাতাসের শব্দ ধরা পড়ে।

তাদের একটি হচ্ছে ‘এয়ার প্রেসার সেন্সর’। যা বসানো রয়েছে ইনসাইটের ভিতরে। অন্য যন্ত্রটি ‘সাইসমোমিটার’। এটি রাখা রয়েছে ইনসাইটের ‘ডেক’-এ। নাসা জানিয়েছে, এয়ার প্রেসার সেন্সরে প্রথম ধরা পড়ে বাতাসের কম্পন। বাতাস বয়ে যাওয়ার ফলে কেঁপে উঠেছিল ইনসাইট। নাসার ল্যান্ডারের সেই কম্পন ধরা পড়েছে সাইসমোমিটারে।

মঙ্গলে বাতাসের শব্দ নাসা ইন্টারনেটে ছেড়েছে। শব্দটি অনেক দূর থেকে আসায় তা শুনতে একটু কষ্ট করতে হচ্ছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে বাতাসের শব্দ শুনতে বলছে নাসা। ইনসাইটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক টম হফম্যান বলেন, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে ইনসাইট যখন ঢুকছিল, তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩০০ মাইল। তার পরের সাড়ে ছয় মিনিটে দ্রুত কমিয়ে আনা হয় যানটির গতিবেগ।

ইনসাইট যখন লাল মাটি থেকে এক মাইল ওপরে ছিল, তখন নাসার ওই ল্যান্ডারের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় মাত্র এক হাজার কিলোমিটার। পরে তা আরো কমানো হয়। ইনসাইটের এই মিশনকে ২০৩০-এর দশকে মঙ্গলে মনুষ্যবাহী অনুসন্ধানী যান পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছে নাসা। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।