গরিব গরিবের দুঃখ বোঝে : হিরো আলম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘরে ঢুকে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে পিটিয়ে আহত করে তাদের সামনে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে দেখতে গিয়ে আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন, গরিব গরিবের দুঃখ বোঝে।

শনিবার সকালে তিনি নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

দেখার পর হিরো আলম বলেন, ‘গরিব গরিবের দুঃখ বোঝে, তাই আমি এত দূর থেকে ছুটে এসেছি। আমি নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। চাই তাদের ফাঁসি হোক, এমন ঘটনা যেন আর বাংলার ঘরে না ঘটে।’

তার ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আমাকেও মারধর করা হয়েছে। আমার বিচার পরে, আগে আমার এই বোনের অপরাধীদের বিচার করেন।’

হাসপাতাল থেকে হিরো আলম সুবর্ণচরে নির্যাতিতা গৃহবধূর বাসায় যান। সেখানে তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন ও সান্ত্বনা দেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধানের শীষে ভোট দেয়ার জের ধরে রাত ১১টার দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে সিএনজিচালকের স্ত্রী (৪০) গণধর্ষণের শিকার হন।

এ সময় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা গৃহবধূর স্বামী, ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনার পরপরই গোপনে গৃহবধূ ও আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে গৃহবধূর দাবি, নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার জেরে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী অভিযোগ করলে সোমবার লক্ষ্মীপুর থেকে আবদুল মন্নানের ছেলে ও আওয়ামী লীগ কর্মী স্বপন (৩০) এবং মঙ্গলবার রাতে চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের আহাম্মদ উল্লাহর ছেলে বাদশা আলমকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর বুধবার দুপুরে একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী মো. সোহেলকে (৩৫) কুমিল্লা জেলার অজ্ঞাত স্থান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় একই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুহুল আমিন, মোশাররফ হোসেন, বাদশা, সোহেল, হেঞ্জু, সোহেল, বেচু, জসিম, স্বপন, মো. হানিফ, আবুল, আনোয়ার, আমির হোসেনসহ ১২ জনকে আসামি করে গৃহবধূর স্বামী প্রথমে থানায় অভিযোগ এবং পরে মামলা করেন।

তবে রহস্যজনক কারণে ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, আনোয়ার ও হেঞ্জুর নাম বাদ দিয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। সূত্র: যুগান্তর।