মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করা যাবে না : উচ্চ আদালত

সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া বা কাজ করাটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে চিকিৎসা নীতিমালা প্রণয়নে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যে কমিটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস, ফি-সহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে। আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে শুনানিতে বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করা যাবে না।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অফিস শেষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগের অপব্যবহার করে অনেক চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন। এর হার ৬২ শতাংশ বলে রিপোর্টও দিয়েছে দুদক।

সরকারি চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার বৈধতা নিয়ে মঙ্গলবার শুনানি হয় উচ্চ আদালতে। শুনানি শেষে রুল জারি করেন আদালত। আদেশ দেন, সমন্বিত চিকিৎসা নীতিমালা প্রণয়নে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠনের। যে কমিটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস, ফি-সহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্র্যাকটিসের একটি বিধান ছিল। এই বিধানটি কেন সংবিধানের আর্টিকেল ৩২ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, অসাংবিধানিক হবে না, এজন্য মহামান্য হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন মেডিকেল কমিশন গঠনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

এদিন শুনানিতে দেশের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত। বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করা যাবে না।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরও মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরও সাধারণ মানুষ কোনো ওষুধ পাচ্ছেন না। এজন্য আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি হওয়া উচিত যাতে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে না পারেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএমডিসি এবং বিএমএকে উচ্চ আদালতের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।কালের কন্ঠ অনলাইন