মসজিদের খাদেমের সাহসিকতায় বেঁচে গেল অসংখ্য প্রাণ

গতকাল শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে লিনউড মসজিদে হামলাকারীর উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনেকের জীবন বাঁচিয়েছেন ঐ মসজিদের এক তরুণ খাদেম।

সেই তরুণের সাহসিকতার গল্প নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে শুনিয়েছেন ওই মসজিদ থেকে বেঁচে ফেরা সৈয়দ মাজহারিউদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারিউদ্দিন বলেন: লিনউড মসজিদে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান এবং গুলির শব্দ তার কাছে আসতে থাকে। গুলির শব্দ শুরু হলে লোকজন আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। ছোট ওই মসজিদে তখনও মোটামুটি ৬০ থেকে ৭০ জন ছিলেন। আমিও তখন লুকাতে জায়গা খুঁজছিলাম। হঠাৎ দেখলাম এক লোক মসজিদের দরোজা দিয়ে ঢুকল।

দরোজার কাছেই বয়স্ক কয়েকজন নামাজ পড়ছিলেন। দরোজায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওই হামলাকারী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি করতে থাকে।

হামলাকারী নিরাপত্তার গিয়ার পরিহিত ছিল। ওই সময় মসজিদের দেখভাল করা সেই তরুণ ভেতর থেকে এসে হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নেয়।

তিনি হামলাকারীকেও ধরার চেষ্টা করেন। হামলাকারী তখন দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে অপেক্ষায় থাকা একটি গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ মাজহারিউদ্দিন।

তিনি জানান: এই হামলার ঘটনায় তার সামনেই একজনকে বুকে, আরেকজনের মাথায় গুলি করে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরেকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ভেতরে রেখে লোক ডাকতে বাইরে যান তিনি। তবে ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স আসে। মনে হয় ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন।

খাদেম ওই তরুণ যদি হামলাকারীর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াতেন, তাহলে সেখানে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত বলে তিনি মনে করেন।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালায় বন্দুকধারী। ওই হামলায় তিন বাংলাদেশিসহ নিহত হন ৪৯ জন। এছাড়া আহত হন আরো ৪০ জন। তাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এ হামলার ঘটনায় একজন নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

হামলাকারী ফেসবুক লাইভ চালু করে হামলা চালায়, সেই লাইভ ভিডিও থেকে হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম।